শ্রীনাথ - Somanandanath
16815
wp-singular,post-template-default,single,single-post,postid-16815,single-format-standard,wp-theme-bridge,wp-child-theme-bridge-child,bridge-core-3.0.2,qode-page-transition-enabled,ajax_fade,page_not_loaded,,qode-child-theme-ver-1.0.0,qode-theme-ver-28.8,qode-theme-bridge,wpb-js-composer js-comp-ver-6.9.0,vc_responsive
 

শ্রীনাথ

শ্রীনাথ

~ কলমে সোমানন্দ নাথ

জীবনে চলার পথে মনুষ্যের একমাত্র সঙ্গী তার নিজ গুরু। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি মনুষ্যের নিজ গুরু হলেন তাদের পিতা এবং মাতা স্বরূপে বিরাজমান। পরবর্তীকালে গুরু রূপে শিক্ষক আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলে। বিদ্যালাভে যারা আমাদের সর্বোতভাবে সাহায্য করেন সেই পর্যায়ে তাঁরাই আমাদের গুরু। সেই জাগতিক জ্ঞান শেষে যখন পারমার্থিক জ্ঞানের পথ উন্মোচিত হয়, যিনি আমাদের ব্রহ্মজ্ঞানের শিক্ষা দেন, যিনি আমাদের কাছে সর্ব দেবদেবীর স্বরূপে বিরাজমান সেই গুরুকে(শ্রীনাথ) আমাদের জীবনে পাইয়ে দেন।

গুরু ভিন্ন কোনো সঙ্গী মনুষ্যের হওয়া সম্ভব নয়, কারণ মানুষের বাকি যা যা সম্পর্ক রয়েছে সবগুলিই আপেক্ষিক, বলা যায় ক্ষণিকের। কিন্তু শ্রীনাথের সঙ্গে শিষ্যের সম্পর্ক হল চিরন্তন ও একইসঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত। ভগবানের ইচ্ছেতে আমরা আমাদের গুরুদেবকে পাই, পাই তাঁর শ্রীচরণের যথাসাধ্য সেবাপূজা করতে। শ্রীনাথ ভিন্ন আমাদের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, কারণ পারমার্থিক শান্তি এবং দেবচরণ তিনি ভিন্ন কেউ পাইয়ে দিতে পারবেন না। তাই শাস্ত্র বলছে:

“ধ্যানমূলং গুরোর্ম্মূর্ত্তি পূজামূলং গুরোঃ পদম্।
মন্ত্রমূলং গুরোর্বাক্যং মোক্ষমূলং গুরো কৃপা।।”

~ অর্থাৎ, গুরুর সচল মূর্তিকে ধ্যান করো, পূজা করো শ্রীগুরুর চরণ, গুরুর বাক্যকে মন্ত্রসম ভেবো এবং গুরুর কৃপা থাকলে তবেই মোক্ষ প্রাপ্তি সম্ভব। গুরুর কথাকে বেদবাক্যের এক একটি বাণী মনে করে যদি এগিয়ে যাওয়া যায়, তাঁর নির্দেশকে যদি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা যায় তাহলে সেই ভক্তের ঈশ্বরলাভ হবেই।

“চৈতন্যং শাশ্বতং শান্তং ব্যোমাতীতং নিরঞ্জনং।
বিন্দুনাদকলাতীতং তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।।”

~ অর্থাৎ, যিনি শাশ্বত শান্ত ব্যোমাতীত ও নিরঞ্জন চৈতন্যস্বরূপ তিনিই শ্রীনাথ। সর্বোপরি যিনি বিন্দু, নাদ ও কলার অতীত, সেই শ্রীগুরুকে সদাসর্বদা প্রণাম করাই শিষ্যের একমাত্র কর্তব্য। এই সমগ্র জীবজগতে গুরুই হলেন একমাত্র শ্বাশত ব্রহ্মস্বরূপ, তাই আমাদের প্রতিটি শিষ্যের উচিত তাঁর কাছে থেকে সবসময় তাঁর সান্নিধ্য লাভ করা।

আমি আমার গুরু এবং আচার্যদেবদের শ্রীচরণ আজীবন বন্দনা করে এসেছি এবং আগামীদিনেও করবো। কারণ প্রকৃত শিষ্যের এটাই মূল কর্তব্য যে, গুরু নাম শ্রবণ করা, গুরু কথা পালন করা এবং গুরুপদ পূজা করা। তাই গুরুদেবরাও আমাকে স্নেহ ছায়া দিয়ে রেখেছেন আর আজও রাখেন। সময় সুযোগ পেলেই গুরুর কাছে ছুটে যাওয়াই একমাত্র কর্ম বলে মনে করি, কারণ:

“ন গুরোরধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ।
তত্ত্বজ্ঞানং পরংনাস্তি তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।।”

~ অর্থাৎ, শ্রীগুরুর থেকে বেশি কোনো তত্ত্ব নেই, তাঁর (সেবা) বেশি তপস্যা নাই, এবং যে কোনও বিষয়ে তাঁর শ্রীমুখের তত্ত্বজ্ঞান অপেক্ষা কোনো শ্রেষ্ঠ কিছু নয়, সেই পরম শ্রীগুরুকে সদাসর্বদা নমস্কার করি। তাই গুরুদেবগণ যে ভাবে আমাকে এই পথে এগিয়েছেন, সেই পথেই এগিয়ে চলেছি আর সারাজীবন সেই পথে চলাই মূল কর্তব্য বলে মনে করি।

দীর্ঘদিনের কর্ম ব্যস্ততার মাঝে সুযোগে পেয়েই ছুটে গেলাম শ্রীনাথের কাছে। স্নেহছায়া পেতে কার না ভালো লাগে, তাই কিছুক্ষণ সময় কাটালাম আমার সচল বিগ্রহের সঙ্গে। আলোচনা হল বগলামুখী মাতৃ মিশনের আগামী পরিকল্পনা নিয়ে, পূজা হোম নিয়ে। মূল উদ্দেশ্য যে, একবার তাঁর শ্রীচরণ দর্শন করা, তাঁর ছোঁয়া পাওয়া। আপনারাও নিজ নিজ গুরুর চরণ বন্দনা করুন, মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।

Somananda Nath
roychoudhurysubhadip@gmail.com