05 Jul সেবা’ই মূল উদ্দেশ্য বগলামুখী মাতৃ মিশন ট্রাস্টের
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
“অন্তরে তুমি আছো চিরদিন ওগো অন্তরযামি/ বাহিরে কোথাও যত খুঁজি তাই পাইনা তোমারে আমি….” অর্থাৎ, এই কথায় কবি বোঝাতে চাইলেন যে তিনি অন্তরের জন, তিনি আমাদের হৃদ মন্দিরে বিরাজ করেন, তাঁকে অন্তরে উপলব্ধি করতে হয় এবং অন্তরে সম্মান জানাতে হয়। তাই আমাদের সকলের উচিত সকলকে সম্মান করা, সকলের অন্তরকে শ্রদ্ধা করা, কারণ তিনিই তো রয়েছেন সেখানে।
দেবপূজার মূল বস্তু ফুল, জল, ধূপ, দীপ হলেও অপরিহার্য বস্তু হল জীবসেবা। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে না দাঁড়ালে, মানুষ হয়ে মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম না করতে পারলে সাধন ভজন করে হবে কি? আমরা যদি সকলকে নিয়ে চলতে পারি তবেই তো মা’কে পাবো, তবেই তো ব্রহ্মকে চিনতে পারব। এটাই আমি আমার শিষ্য ভক্তদের শিখিয়েছি, কারণ আমি নিজেও একসময় আমার গুরু, আচার্যদেবদের কাছে এমনই শিক্ষা পেয়েছি।
আজ বগলামুখী মাতৃ মিশন ট্রাস্টের সদস্যরা সারাদিন, সরারাত ব্যাপী কাজ করে চলেছেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সকলের জন্য। দীর্ঘ চারদিন ধরে জলসেবা করে চলেছে অগণিত ভক্তকে, তাদের হাতে সামান্য জল তুলে দিয়ে এবং যথাসাধ্য সেবা করে তাদের মায়ের কাছে পৌঁছে যেতে সাহায্য করছেন, এর থেকে বড় পুজো কি? না, এরচেয়ে বড় পূজা কিছুই নেই, এটাই মূল পূজা।
আজ শ্রীশ্রীকামাখ্যা দেবালয় থেকে গাড়ি পাঠিয়ে বগলামুখী মাতৃ মিশন ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছেন আরও একটি ক্যাম্পে জলসেবার জন্য, এর চেয়ে বড় আশীর্বাদ কি হতে পারে? তারা নিজেরা যোগাযোগ করে যে ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, আমাদেরও সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন তার জন্য বগলামুখী মাতৃ মিশন ট্রাস্টের অধ্যক্ষ হিসাবে আমি কামাখ্যা দেবালয়ের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকলাম।
আজ আবারও প্রমাণ হল যে মাতৃ মিশনের সদস্যরা মানুষের জন্য সবসময় রয়েছেন, আগেও ছিলেন আজও আছেন আর আগামীতেও থাকবেন। জীব সেবাই তাদের কাছে মূল লক্ষ্য, তবেই মা’কে পাবে-এটাই আমার শিক্ষা। এটাই আমার গুরুর শিক্ষা। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি। সবাই ধীরে ধীরে মায়ের মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান, সাবধানে থাকুন সকলে।
বগলামুখী মাতৃ মিশন ট্রাস্টের একটি ক্যাম্প থেকে আবারও সদস্যরা রওনা দিলেন আরও একটি ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে, কারণ সেবা’ই পরম ধর্ম।