12 Apr শিব রুষ্টে গুরু ত্রাতা….
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
ভারতের অখণ্ডতা, উজ্জ্বলতা, সৌন্দর্যতা এবং ইতিবাচকতা সনাতন ধর্মে। কারণ, যা শ্বাশত, যা চিরন্তন, যা শুরু থেকে রয়েছে কোনো প্রবর্তকের সৃষ্টি নয় কিংবা যার কোনো বিনাশ নেই, অসীম অনন্ত যার ব্যাপ্তি সেই সনাতন ধর্ম। আর এই ধর্মের মূল সার বস্তু হল গুরু। গুরু ভিন্ন ধর্ম অসম্ভব, যেমন জল ছাড়া মাছ বেঁচে থাকা অসম্ভব, যেমন রান্নার উপকরণ ছাড়া রান্না সম্পূর্ণ হওয়া অসম্ভব, ঠিক তেমনই গুরু ভিন্ন শিষ্যের পারমার্থিক শান্তি কিংবা আধ্যাত্মিক উন্নতি হওয়াও অসম্ভব।
শাস্ত্র বলছে, স্বয়ং শিব রুষ্ট হলে গুরুদেব যদি সঙ্গে থাকেন, তার কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু গুরু যদি রুষ্ট হন তাহলে কোনো দেবতার সাধ্য নেই সেই ক্রোধ সংবরণ করার। তাই শিষ্যদের দায়িত্ব গুরুর বাক্য, গুরুর নির্দেশ, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা আজীবন এক রেখে চলা। মানুষ যেমন একটি বড় গাছের ছায়ায় চির শান্তি পায়, শুধু মানুষ নয় পশু পক্ষী সকলেই, ঠিক তেমনই গুরু হলেন বট বৃক্ষের মতন, যিনি আমাদের সবসময় জ্ঞানের আলো দিচ্ছেন, সুরক্ষার ছায়া দিচ্ছেন।
আমি আমার প্রতিটি গুরুদেবের থেকে এতটাই স্নেহ, ভালোবাসা পেয়েছি যার প্রকাশ করার মতন কেনো শক্তি বা ভাষা আমার মতন অধমের কাছে জানা নেই। সম্প্রতি মন খারাপ করলেই ছুটে যাই শ্রীনাথের কাছে, কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আসি। আজও পৌঁছে গেছিলাম শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে, গাড়ি থেকে নামতেই দেখি দেবী জগদ্ধাত্রীর আরতি হচ্ছে। একবার মনে হল এত কাছে এসেছি কিন্তু যাওয়ার সুযোগ কি হবে না? সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ এক গুরু ভাই এসে বললেন, “এই মন্দিরটিতে গিয়েছ কখনও? বহু প্রাচীন মন্দির, এসো আমি নিয়ে যাচ্ছি।” হয়তো মা ডেকে নিয়ে গেলেন আমাকে তাঁর কাছে, তাঁর কৃপা পেতে।
দেবীর আশীর্বাদ নিয়েই রওনা দিলাম নাথের কাছে, গিয়ে দেখি অপেক্ষা করে রয়েছেন কখন আসব আমি। পৌঁছাতেই কাছে টেনে নিলেন, ঠিক যেমন প্রতিবার নেন। একের পর এক আলোচনা হতে লাগল, শাস্ত্রের কথা থেকে শুরু করে মায়ের কৃপার কথা, মন্দিরের কথা একের পর এক, কথা থেকে যেন মুহূর্তের মধ্যে সময় কেটে যেতে লাগল বুঝতেই পারলাম না। সময় এগিয়ে আসতেই বিদায় জানানোর জন্য বাবাকে বলায়, সকলকে সাক্ষী রেখে আবারও সেকথা বলে উঠলেন, “তোর ওপর অনেক অনেক কৃপা বাসুদেব বাবার। তোর কেউ কিছু করতে পারবে না। কোনো টিকিও ছুঁতে পারবে না, গুরু রয়েছেন। এগিয়ে চল আগামীর দিনে। তুইই পারবি এই সম্পদের যথাযথ মর্যাদা রাখতে।” আমিও আশীর্বাদ নিয়ে ফিরে এলাম আমার গন্তব্যে, নিজের কর্মে আবারও মনোনিবেশ করতে। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।