12 Apr কৃপাময়ীর অহেতুকী কৃপা
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
জগজ্জননী কোনোদিনই কৃপা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেননি, কারণ গুরুর আশীর্বাদ আজও পেয়ে যাচ্ছি। শ্রীনাথ কৃপা রেখেছেন বলেই আজ যে কোনো স্থানে গেলেই অলৌকিক ঘটনা ঘটতেই থাকে। প্রতিবারই কোথাও গেলেই মা টেনে নেন এবং তিনি যে সন্তুষ্ট রয়েছেন সেটাও জানান দিয়ে দেন কিছু না কিছু ঘটনা ঘটিয়ে, যার কোনো তাত্ত্বিক যুক্তি নেই আমার কাছে।
সম্প্রতি আজই ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে গেছিলাম মা ফুল্লোরা দেবীর কাছে। দেবী ফুল্লোরা জয়দুর্গা রূপে পূজিত হন, মা সবসময়ই কিছু না কিছু লীলা দেখিয়ে জানান দিয়ে দেন যে তিনি রয়েছেন সম্পূর্ণ এই ক্রিয়া কর্মে। দেবী ফুল্লোরা পীঠে পূজার জোগাড় শেষে আমরা মূল পূজায় বসেছি, হঠাৎ করে দেখলাম সেই হনুমানজি স্বয়ং এসে পূজার থালা থেকে প্রসাদ (প্রসাদী কলা) নিয়েই চলে গেলেন। (সাধারণত বহু ব্যক্তির অভিমত যে, হনুমানজি কোনো না কোনো বাড়িতে নানান দ্রব্য তছনছ করেন বা কাউকে মাঝে মাঝে ক্ষেপে গেলে আঘাতও করেন। কিন্তু উনি আমাকে বা পূজার আসনে বা কোনো ভক্তের কোনো ক্ষতি সাধন করেননি। উল্টে তিনি সানন্দে নিজের পছন্দের দ্রব্য নিয়ে চলে গিয়েছেন।) কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে এলেন পূজার স্থানে, আমিও সানন্দে প্রসাদী দ্রব্য ভক্তদের দিয়ে বললাম, “এই প্রসাদ তাদের মধ্যে দিয়ে দিতে।” ভক্তরা সানন্দে হনুমানজি’দের দিলেন এবং তারাও আনন্দে গ্রহণ করলেন। (আমি মনে করি দেবতা কোনোদিন নিজে সম্মুখে এসে এই প্রসাদ গ্রহন করেননা, কোনো কোনও ভক্তের মাধ্যমে তিনি সেই প্রসাদ গ্রহন করেন। আর হনুমানজি তো স্বয়ং শ্রীরামের সবচেয়ে বড় ভক্ত। তাই তিনি যখন নিজে এসে প্রসাদ নিয়েছেন তাহলে এটাই বলে দেয় যে মায়েরও তাই ইচ্ছে ছিল।)
হনুমানজি চলে যাওয়াতেই হঠাৎ করে দমকা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ প্রায় লণ্ডভণ্ড হওয়ার জোগাড়। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে নাট মন্দিরে এই পূজার দ্রব্য, পূজার সমস্ত কিছু থাকতেও কোনো লণ্ড ভণ্ড হয়নি, উল্টে বাকি সমস্ত স্থানে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল যে সকল ভক্তের কাছে একটাই প্রশ্ন, এমন ফাঁকা নাট মন্দিরে এই তীব্র গতিতে ঝড় উঠেও কোনো পূজার দ্রব্যে ব্যাঘাত ঘটল না! এ কীভাবে সম্ভব! হ্যাঁ, সম্ভব, মায়ের কাছে সবই সম্ভব। তিনিই সব অসম্ভবকে সম্ভব করেন।
হঠাৎ হোম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এই ঝড় এবং বৃষ্টি থেমে গেল। হঠাৎ করে শিয়ালের দলের চিৎকার আবারও প্রমাণ করল মা রয়েছেন। মা এই সমগ্র পূজায় রয়েছেন, তার মন্দিরের সহচর থেকে শুরু করে সকলে উপস্থিত থেকে এই পূজা সম্পন্ন করছেন। হোম চলতে থাকে, একের পর এক ভক্তের কাজ হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পূর্নাহুতির সময়, এমন সময় শিয়ালের ডাক হঠাৎ করে থেমে যায়, পরিবেশ একদম ঠান্ডা হয়ে যায়, মনে হয় যেন মা শান্ত ভাবে এবার বসলেন।
পূর্ণাহুতি শেষ হল, শুরু হল মায়ের সন্ধ্যারতি, আর সেই ধোঁয়া পুরোপুরি মন্দিরের গর্ভগৃহের দিকে চলে যেতে শুরু করল। হোম শেষ করে মায়ের প্রসাদ খেয়ে চলে কঙ্কালীতলা সতী পীঠে। আর কি অদ্ভুত যে, তখনও মায়ের সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হয়নি। মনে হল মা যেন অপেক্ষা করছিলেন আমাদের আসার জন্য। একদম সামনে থেকে সন্ধ্যা আরতি দর্শনের পর প্রসাদ নিয়ে গন্তব্যে ফিরে এলাম। গুরুর কৃপা ছাড়া এগুলি কিছুই সম্ভব নয়। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।