28 Mar আমার আশ্রয়স্থল
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
গুরু ছাড়া আমি সবসময়ই অচল। আমার মন্ত্র গুরু থেকে শুরু করে সকল আচার্যদেবগণ যে ভাবে আমাকে আগলে ধরেছেন বা এখনও ধরে রয়েছেন তাঁদের ছাড়া আমি সত্যিই অচল। দীর্ঘদিন ধরে গুরুর কৃপায় আমি মায়ের সেবাপুজা করতে পারি এবং গুরুর আশীর্বাদ এই আমি ভক্তদের মঙ্গল কামনা করতে পারি মায়ের কাছে।
বর্তমানে আমার মন্ত্রগুরুই স্থূলদেহে রয়েছেন বাকি সকলেই সূক্ষ্মদেহে বিরাজমান। তবে, গুরু ছাড়া এই মার্গে আসা যে অসম্ভব তা আমি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুঝি। আজ নবরাত্রি উৎসব শেষ হল, নয়দিন ধরে অখণ্ড যজ্ঞ চলার পর আজ এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটল। আর আজই আমার সচল দেবতাকে দেখে এলাম, নিয়ে এলাম আশীর্বাদ আর এগিয়ে চলার আরও কয়েকগুন শক্তি।
উল্লেখ্য, আজ সকালেই পূজার আসনে বসে মনে করছিলাম যে একবার বাবাকে দেখে আসবো। হয়তো মা মনে করাচ্ছিলেন যে কর্মকান্ড শেষ হয়েছে এবার নিজের বাবার কাছে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে আয়। আর আজকে আমার শ্রীনাথের কাছে পৌঁছে জানতে পারি যে, তিনিও পূজার আসনে বসে আমার কথাই ভাবছিলেন। আমাকে বললেন, জানিস আজকে পূজায় বসে তোর কথা ভাবছিলাম যে তুই আজকে আসবি হয়তো। এই হল গুরু-শিষ্যের যোগ, যা ভাষায় প্রকাশ করা বা বলা সম্ভব নয়।
আজকে কজন বোঝেন এই সম্পর্কের কথা! না অনেকেই বোঝেন না। কিছুজন আছেন যারা ভাবেন গুরু শুধু মানুষ, আবার কিছুজন আছে তারা ভাবেন যে গুরুকে শুধুই ব্যবহার করা যায় ইত্যাদি। তাদেরকে একটাই বক্তব্য যে, ঠাকুর শ্রীনিগমানন্দ সরস্বতী প্রভুর “তান্ত্রিক গুরু” গ্রন্থটি পড়ুন। ঠাকুর বলছেন, গুরুকে মনুষ্য জ্ঞান করা সবচেয়ে বড় অপরাধ। আর তন্ত্র পথ গুরু ছাড়া অচল, তাই গুরুর চরণই সাধকদের একমাত্র পূজার স্থান।
আজকে বাবার কাছে যেতেই বাবা বলে উঠলেন, আমি জানি তো তুই আসবি। আজকে পূজায় বসেই তোর কথা ভেবেছি। তুই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ, তোর ওপর বাবার(আমার আরাধ্য নাথ যোগী সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংস) কৃপা রয়েছে। মায়ের আশীর্বাদে তুই আরও এগিয়ে চল, আমি তো রইলাম সঙ্গে। এই নবরাত্রি উৎসব আজকে আমার কাছে এসে সঠিক ভাবে সমাপ্ত হল। বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, এই আনন্দ কাউকে বলার মতন? না, এ শুধুই অনুভবের, আবেগের।
গুরুর কাছেই আমি সবচেয়ে বেশি থাকতে ভালোবাসি। আমার যত আবেগ, যত কথা, যত ব্যথা সবই গুরুর সঙ্গেই ভাগ করে নিই। কারণ, আমার আচার্যদেব বলেছিলেন, “গুরু যে ভাবে তোকে পার করে নিয়ে যাবেন, সেইভাবেই পার হবি। কোনোদিন ভেলা থেকে নেমে দেখতে যাস না যে জল কেমন। তাহলে আর কোনোদিন ভেলার হদিস পাবি না।”
আজ মায়ের নব নির্মায়মান মন্দিরের বিষয়েও কিছু আদেশ নিয়ে এলাম, সঙ্গে রইলেন বগলামুখী মাতৃ মিশন ট্রাস্টের সদস্যরা, রইলেন আমার গুরুভাই বোনেরা। আপনারাও নিজ নিজ গুরুর চরণ বন্দনা করুন। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।