25 Apr অমাবস্যায় মহাপ্রভুর কৃপা
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
পারিবারিক দিক থেকে দেখতে গেলে শক্তি পথের ধারাই সবচেয়ে বেশি, সেটি কালীঘাট মন্দির নির্মাণ থেকে শুরু করে হালিশহরের পঞ্চমুণ্ডী আসনে সাধনা সবেতেই পরিবারের পূর্বপুরুষেরা দক্ষ ছিলেন। তাই ছোট থেকেই শক্তিপূজার প্রতি ঝোঁক সবচেয়ে বেশি। তবে, শক্তির সেবক হয়েও মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ কিন্তু কৃপাদৃষ্টি সরিয়ে নেননি। বরং বছরে বহুবার তাঁকে দেখবার সুযোগ দেন, আর যেকবার তাঁর কাছে পৌঁছেছি ততবারই তিনি অহেতুকী কৃপা করেছেন। তিনি ভক্তের ভগবান, আমাদের মতন তুচ্ছ জীবের উদ্ধারকর্তা, একথা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। বিপদে পড়লেই কাছে টেনে নিয়ে সেই বিপদ থেকে সহজেই মুক্তি দিয়েছেন।
আজ বাংলা বছরের প্রথম অমাবস্যা চলছে, গতকাল রাত থেকে এই তিথি পড়েছে। আর স্বাভাবিক ভাবেই বছরের প্রথম অমাবস্যায় আমাদের ধ্যান, জপ, বিশেষ পূজা একটু থেকেই থাকে। তবে এবারের অমাবস্যার দিনটি সামান্য হলেও আলাদা। চতুর্দশী তিথিতে তারাতারিণী মা কৃপা করে আমাকে তাঁর ক্ষেত্রে পূজা ও হোম করবার সুযোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রসাদ পাওয়ারও সুযোগ দিয়েছেন আমাদের সকলকে। পাশাপাশি অমাবস্যা পড়তেই স্ত্রী এবং শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে ছুটে এলাম নীলাদ্রিনাথের কাছে, কারণ তিনিই তো ব্রহ্মস্বরূপ, তিনিই আমাদের কালিয়া ঠাকুর আবার তিনিই নারায়ণ। গতকাল রাতেই পুরীর শ্রীক্ষেত্রে পৌঁছে গিয়েছি। আজ সকালে নিত্যকর্ম শেষ করে বেরিয়ে পড়লাম ব্রহ্মরূপী জগন্নাথকে দর্শন করতে।
মন্দির ক্ষেত্রে পৌঁছাতেই বহু ভক্তের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তারা আমার ভিডিও দেখেন, কথা হল মহাপ্রভুর নানা বিষয়ে, তন্ত্রের বিষয়ে। কথা বলতে বলতেই মূল মন্দিরে প্রবেশের সুযোগ পেলাম। আর অমাবস্যায় মহাপ্রভুর দর্শন শুরু হল আমার। গুরুর কৃপা ছাড়া এমন সম্ভব নয়, তিনি কৃপা রেখেছেন বলেই প্রভু আমাকে টেনে নিয়ে আসেন বারবার। আর ঠিক আমার শ্রীনাথের মতন বুঝিয়ে দেন যে, তোর চতুর্দিকে আমি রয়েছি, কেনো ভয় নেই।
প্রথমবার দর্শন শেষে আনন্দ বাজারে পৌঁছে গেলাম মহাপ্রসাদের জন্য। প্রসাদ খাচ্ছি, এমন সময়ে এক পাণ্ডা এসে মাথায় হাত দিয়ে বললেন, তোমার বারবার এখানে আসার সুযোগ দেবেন মহাপ্রভু, আমি অবাক হয়ে গেলাম শুনে যে তিনি কি করে জানলেন যে আমি বারবার আসি এখানে! এর কোনো তাত্ত্বিক যুক্তি আমার কাছে নেই।
প্রসাদ পাওয়ার পর আবারও লাইন দিলাম দর্শনের। দেখলাম, এবার প্রভুর একেবারে কাছে পৌঁছাবার সুযোগ রয়েছে। আনন্দের সঙ্গে প্রবেশ করলাম মন্দিরে। গতবারের মতন এবারও সেই এক কাণ্ড! প্রথমে বলভদ্রদেবের এবং সুভদ্রারানীর দর্শনের পর একটি স্থানে দাঁড়িয়ে রইলাম (আগেও ওখানে দাঁড়িয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁকে দেখেছি, মনের কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, আনন্দ, দুঃখ সবকিছু ভাগ করার সুযোগ পেয়েছি)। এবার আরও সামনে এক পুলিশকর্তা দাঁড়িয়ে ছিলেন, সকলকে তাড়াতাড়ি দর্শন শেষে বেরিয়ে যেতে বললেও আমাকে একবারের জন্য তিনি একথা বলেননি।
এবারও অবাক হলাম এই ভেবে যে, মহাপ্রভুর কৃপা সত্যি কি আমার প্রাপ্য! আমি কি এতটাও শুভকর্ম করেছি যে তিনি আমাকে এইভাবে সকলকে আলাদা রেখে দর্শন দেবেন। কিছুক্ষণ পর প্রভুর সঙ্গে কথা শেষ করে আরও এগিয়ে এলাম তার দিকে। দেখলাম, হঠাৎ করে সামনের যত ভক্ত সকলে সরে গিয়ে আমার স্থানটি খালি করে দিলেন। মনে হল যেন, প্রভুর ইচ্ছে এটাই যে সামনে এগিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ দর্শন কর আমাকে। কোনো পাণ্ডা বা কোনো পুলিশকর্তা আমাকে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ বা কিছু করেননি, উল্টে পাণ্ডারা প্রভুর আরতির তাপ নেওয়ার সুযোগও করে দিলেন আমাকে।
প্রভুর দর্শন শেষে পোঁছে গেলাম মা বিমলার কাছে, আজ অমাবস্যা তাই মায়ের দর্শন ছাড়া কিছুই যে সম্ভব নয়। মা বিমলাও যেন সকল ভক্তকে কৃপা করছে। মায়ের দর্শন শেষে ফিরে এলাম গন্তব্যে, নিয়ে এলাম একরাশ আশীর্বাদ ও কৃপা। আপনারাও মায়ের কৃপায় ভালো থাকুন এই প্রার্থনা করি।