08 Mar শিবসেবা: সতীপীঠ যোগাদ্যায়
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
সমগ্র জগৎ শিবময়, জগতের সমস্ত বস্তু থেকে শুরু করে সমগ্র জীব জগৎ তাঁর নির্দেশিত পথেই নির্মিত হয়, পালিত হয় এবং ধ্বংস হয়। আর এই শিবই মানবের অন্তরে, জীবের অন্তরে বিরাজমান। তাঁদের সেবা করতে পারলেই দেবসেবা সম্ভব, শিবরূপী জীবদের সেবা করার সুযোগ যে আমি পেয়েছি এটাই অনেক সৌভাগ্য বলে মনে করি।
মানবের জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই এই সংক্ষিপ্ত জীবনে সবসময় চাই দেবসেবা করতে, আর আমার বিশ্বাস যে, এই সেবা তখনই স্বার্থক রূপ নেবে যখন আমি জীবের মধ্যে তাঁকে খুঁজে পাবো।
মানুষের দৈনন্দিন জীবন পালন করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন, আমারও প্রয়োজন হয়, কিন্তু অতিরিক্ত নয়। গুরুর শিক্ষা হল, মায়ের নাম প্রচারে এবং সর্বোপরি জীবসেবায় সবসময় নিয়োজিত থাকবে, আর গুরু নির্দেশ আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করি।
ভক্তদের সঙ্গে করে আমি বহুদিন ধরে বিভিন্ন সতীপীঠ হোম করি। মা কখনও যোগাদ্যা, কখনও কঙ্কালীতলা, কখনও ত্রিপুরাসুন্দরী, কাশী, কামাখ্যা নানান ক্ষেত্রে নিয়ে যান। মায়ের নির্দেশে আমিও সেই কাজ করতে যাই। যতবার যোগাদ্যায় আসি, এখানকার জীবদের সেবা করবার সুযোগ দেন মা। সমস্ত জীবেরা যেন, আমাকে চেনে এটাই অনুভব হয় যখন তারা এগিয়ে আসেন আমি এলেই।
আমার পরমগুরু সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংস বলতেন, ” আর্ত মানুষের সেবা করো। মানুষ হয়ে যদি মানুষের কথা না ভাব, তাহলে তাকেও আমার কথা ভাবার দরকার নেই।” তাই গুরুদেবের সেই নির্দেশকে পালন করতে আমি সামান্য সেবার আয়োজন করি নানান ক্ষেত্রে।
সম্প্রতি গতকাল সতীপীঠ যোগাদ্যায় শতাধিক ভক্তকে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। সমস্ত ভক্ত, সাধু থেকে শুরু করে মন্দিরের কর্মীরা এতটাই আনন্দ করে উৎসব করলেন দেখেই মনে হল মা হয়তো এমন ভাবে সেবার সুযোগ আমাকে বারবার দেবেন।
জীবনে এটাই আমার পরম প্রাপ্তি বলে মনে করি, যখন প্রসাদ খেয়ে ভক্তরা এসে বলেন যে, “গুরুদেব খুব ভালোভাবে খেলাম।” এটাই তৃপ্তি আমার যে মা আমাকে এই সুযোগ বারবার দিচ্ছেন তাদের সেবার। কারণ সকলের মধ্যেই যে তিনি আছেন, সকল জীবের অন্তরেই আমার মা রয়েছেন, বারবার এমন কিছু প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল এই প্রসাদ খেতে বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন এসেছিলেন, আমিও তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম, শুনলাম তাদের কথা, ভাগ করে নিলাম সকলের সঙ্গে পারমার্থিক আনন্দ। তবে এই সেবাকাজে আমার দুই শিষ্য অভেদানন্দ নাথ এবং অর্জুনানন্দ নাথ ভীষন ভাবে সাহায্য করেছে, সাহায্য করেছে আমার মায়ের ভক্ত সাহেব, যোগাদ্যা মন্দিরের সেবায়েতবর্গ, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে আমার প্রায় দেখা হয় (কৃষ্ণভাই, কাকা) এছাড়া প্রচুর প্রচুর মানুষ।
সত্যি বলতে আমার কাউকেই দেওয়ার মতন কিছু নেই, কি দেব আমি? কি দিতে পারি? হ্যাঁ, মায়ের নাম করাতে পারি সকলকে, মায়ের পথে হাঁটাতে পারি, ব্রহ্মকে চেনার পথ বলে দিতে পারি এবং সর্বোপরি তাদের মুখের সামান্য হাসি, আনন্দ এটাই দিতে পারি। মা যেন আমাকে সবসময় এমনই কৃপা করেন যে আমি সমগ্র ভারতের মানুষকে এই ভাবে এক এক করে সেবা করতে চাই।
মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি। সকলে জীবসেবা করুন, প্রতিটি জীবের মুখে অন্ন তুলে দিন, তাদের সঙ্গে নিজের কিছুক্ষণ ভাগ করে নিন, দেখবেন সারাজীবন কোনো কষ্ট থাকবে না, পাবেন অফুরন্ত আনন্দ এবং মাতৃসুধা।