12 Feb ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের কৃপায় সাধক বাসুদেবকে পাওয়া
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
স্থান: ত্রিপুরা
গন্তব্য একটাই হওয়া উচিত, সেটি হল শ্রীগুরুর চরণ। গুরু চরণে শিষ্য থাকলে তখনই সেই শিষ্য জীবনের সবকিছু লাভ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, গুরুর আশীর্বাদেই শিষ্য বিশ্বজয় করতে পারে। আমি আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে, বাসুদেব বাবা অবশ্যই রয়েছেন সূক্ষ্মদেহে, আর তিনিই কৃপা করে চলেছেন অনবরত।
কলকাতা, কাশী, চিত্তরঞ্জন, বিহার থেকে শুরু করে এবার ত্রিপুরা, বাবা বাসুদেব যেখানে যেখানে থেকেছেন, যে সমস্ত ভক্তদের কৃপা দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সমস্ত কাজ করেছেন হঠাৎ করেই বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁদের সঙ্গেই আলাপ হতে শুরু করে এবং শুধু তাই নয় বাবার সমস্ত সম্পদ তাঁরা আমার কাছে তুলে দেন। এটি গুরু কৃপা ছাড়া কি?
ত্রিপুরায় যোগাযোগ খুবই অদ্ভুত ভাবে। সাধক বাসুদেবের শিষ্যা একদিন আমাকে ফোন করেন এবং জানান কিভাবে তাঁর সঙ্গে গুরুদেবের দেখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাবার কথা বলতে বলতে অঝোর নয়নে কেঁদে ফেলেন এবং বলেন যে গুরুদেব কি ছিলেন তা কোনো শব্দে বোঝানো সম্ভব নয়, শুধু এই টুকু বলতে পারি উনি আজও রয়েছেন। আর এই কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে মানি যে সাধক বাসুদেব আজও আছেন, তিনি না থাকলে আমি এই বারবার অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারতাম না।
ত্রিপুরা পৌঁছেই শিষ্যদের সঙ্গে গেলাম আমার থাকার স্থানে, গিয়ে মায়ের সেবা পূজা করলাম। পূজা শেষে বাকি শিষ্যরা বলল তোমরা এখানেই বিশ্রাম নাও আমরা বাকিদিকগুলি দেখে আসি। কিন্তু আমি তো বিশ্রামে আসিনি! আমি এসেছি গুরুদেবের সবকিছু খুঁজতে, তাঁকে আরও কাছে থেকে জানতে। অর্ধাঙ্গিনীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম বাবার খোঁজে। আপেক্ষিক বাসস্থান থেকে বেরোতেই এক toto দাদার সঙ্গে আলাপ হল, তিনিই আমাদের নিয়ে গেলেন প্রথম গন্তব্যে (যেখানে সাধক বাসুদেব ত্রিপুরা পৌঁছেই থাকতেন)। তবে গিয়ে সামান্য হতাশ হলাম এই কথা শুনে যে সেই বাড়িটি বিক্রি করে বহুদিন আগে সকলেই চলে গিয়েছেন অন্যত্র। মনের দুঃখ নিয়ে বাবাকে বললাম, “এমন করো কেন? কিছুই রাখবে না যখন তাহলে এত আশা দিয়ে পাঠাও কেনো?” কিন্তু তখনও জানি না যে, গুরুদেব আমার জন্য রত্ন সম্পদ রেখেছেন।
যাইহোক, সেই জায়গায় আরো এক মায়ের সঙ্গে দেখা হয়। সেই মা সাধক বাসুদেবকে খাবার বানিয়ে দিতেন, প্রয়োজনে বাবাকে ওষুধ খাওয়ানো, বাবার দেখাশোনা করা সব করতেন। মা আমাকে জানালেন যে, সাধক বাসুদেব আর কোথায় কোথায় পৌঁছেছেন এবং রেখেছেন তাঁর অমুল্য রত্ন সম্পদ। হঠাৎ করে সেই toto দাদা আমাকে জানায় যে, “আমি আপনাদের নিয়ে যাবো, আপনারা চিনতে পারবেন না, আর এই সন্ধ্যায় একা একা কোথায় যাবেন? চলুন আমার সঙ্গে।” অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে আর ভাবলাম হয়তো গুরুদেবই পাঠিয়েছেন ওনাকে। দাদা সমস্ত বর্ণনা জেনে আমাদের নিয়ে গেলেন সেই স্থানে।
উল্লেখ্য, স্থানে পৌঁছেই বহু খুঁজতে হয়েছে (ঠিক যখন কলকাতা, হাওড়ায় বাবার জায়গাগুলি খুঁজতে শুরু করেছিলাম, তেমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম এবারও)। বাবার জায়গা খুঁজে পাওয়ার জন্য সেই toto দাদাও খুবই সাহায্য করেছেন এবং বাবার সেই সেবিকা মাও সাহায্য করেছেন আমাকে। যাইহোক, খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেলাম বাবা যেখানে থাকতেন (দ্বিতীয় গন্তব্যে)। পৌঁছেই এক বাবা ওপর থেকে জিজ্ঞাসা করলেন আমাদের আসার কারণ, এবং সেই কারণটি জানতেই বললেন, “আসুন, আপনি বাবার খোঁজে এসেছেন, ওপরে আসুন দাদা।” এই শুরু হল সাধক বাসুদেবের লীলা, যে লীলার সাক্ষী আমি বহুবার।
ওপরে পৌঁছাতেই তাঁদের ঠাকুরঘরে পৌঁছে গেলাম, পৌঁছেই দেখতে পেলাম সেই অষ্টমঙ্গলা বগলার শ্রীবিগ্রহ। আর তাঁর পাশেই রয়েছেন আমার প্রাণধণ সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংসের চিত্রপট এবং অন্যান্য দেব বিগ্রহ। আমি এবং আমার অর্ধাঙ্গিনী দেখেই খুশিতে আত্মহারা, কিন্তু আমরা তখনও জানিনা যে বাবা আরও আরও কিছু রেখেছেন আমাদের জন্য।
সেই দাদা (তার কোথাও সাধক বাসুদেব চিঠিতে লিখে গিয়েছেন, সেই প্রমাণও রয়েছে) আমাকে বাবার সঙ্গে থাকা ত্রিশূল এবং চরণ পাদুকা দর্শন করালেন। এবার শুরু করলেন সাধক বাসুদেবের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এবং নানান কথপোকথন। দাদার মা (সাধক বাসুদেব তাঁকে খুবই স্নেহ করতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে এবং পরিচালনায় বহু উপদেশ দিয়েছেন সেই মাকে) এবং বাবা ছিলেন বাবার খুব বড় ভক্ত। বাবা তাদের চিঠি, গান, লেখা বহু রত্ন সম্পদ দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে অষ্টমঙ্গলা মাকেও প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন (এই মায়ের দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন পূজা হয় বিশেষ ভাবে)।
এবার শুরু হল অলৌকিক লীলা! দাদা আমাকে জানালেন যে, তাঁর মায়ের ঘরে নীচে আর এখন তিনি স্থূলদেহে নেই বলে ঘরটি সামনের দিকে ভাড়া দিয়েছেন তবে ভাড়াটে কিছুক্ষণ আগেই বেরিয়ে গিয়েছেন তাই ঘরে প্রবেশ করাও যাবে না! আমি শুনে খুবই কষ্ট পেলাম। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠল, দাদা গিয়ে দেখেই আমার কাছে এসে জানান যে, বাসুদেব বাবার কৃপা ছাড়া এগুলি হতেই পারে না। সেই নীচের ভাড়াটে আবার এসেছেন কিছু ভুলে গেছেন বলে। সেই দাদা সঙ্গে সঙ্গে নীচে গেলেন এবং নিয়ে এলেন সাধক বাসুদেবের সেই অমুল্য রত্ন সম্পদ। আমিও ভীষণ খুশি সেইগুলি দেখে। উনি বললেন, “আপনি রাখুন এগুলি, আমি এখন আর নিয়ে কি করবো, আপনার কাজে লাগবে এই তথ্যগুলি।” কিছুক্ষনের জন্য মনে হল বাবা হয়তো নিজে থেকেই এগুলি আমাকে তুলে দিলেন, যাতে আমি তাঁর প্রচার আরও সঠিকভাবে করতে পারি।
বাবার কথা নিয়েই চলল বেশ কিছুক্ষণ। আমি লক্ষ্য করলাম তাঁরা দুজনেই কাঁদছেন, আমি বুঝলাম যে গুরু ভক্তি কি, গুরুর প্রতি স্বরণাগতি কি হতে পারে।ওনাদের থেকে একটি আশীর্বাদ নিয়ে এলাম যে আমি যে সমগ্র ভারত তথা বিশ্বে বাবা বাসুদেবের নাম প্রচার করতে পারি। এবার আমি এবং আমার স্ত্রী যত্ন করে সেই রত্ন সম্পদ নিয়ে এলাম এবং সেই সম্পদ বগলামুখী মাতৃ মিশনে সঠিক পদ্ধতিতে থাকবে। কারণ, এ আমার গুরুদেবের জিনিস, আমার দায়িত্ব সেই সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার। এক মুহূর্তের মধ্যে মনে হল ত্রিপুরা আশা সম্পূর্ণ হয়েছে আমরা চাইলেই আজকে ফিরে যেতে পারি কলকাতায়, কিন্তু এখনও অনেক লীলা বাকি রয়েছে সেই লীলাও জানাবো আপনাদের……..
. 