10 Dec দুই ভক্তের প্রসাদ পাওয়া মাধবের কাছে
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
গুরু কৃপায় এবং সর্বোপরি দেবীর আশীর্বাদে নানান সতী পীঠে হোম, পূজা করে থাকি। উদ্দেশ্য একটাই ভক্তদের সাহায্য করা, গুরু এবং আচার্যের কৃপায় যতটুকু জানতে পেরেছি সেই জ্ঞান দিয়েছি তাদের যথাসাধ্য সাহায্য করা। এর আগেও বহুবার উল্লেখ করেছি যে, আমি যেখানেই যাই সেখানেই আমার আরাধ্যদেব সবকিছুর বেবস্থা করে রাখেন। সেটি আমার থাকার জায়গা হোক, কিংবা কোনো অলৌকিক ঘটনা হোক কিংবা এমন কোনো বিষয় যেটি আমার সঙ্গে এবং আমার ভক্তদের সঙ্গে আগে ঘটেনি।
জীবনে এই পথে এসেছি বহুদিন, তবে আগে সম্পূর্ণ নিজেকে গোপনেই রেখেছিলাম কারণ ভগবতী হয়তো চাননি, সেই সময় প্রকাশ করাতে, এমনটাই আমি মনে করি। ধীরে ধীরে শিষ্য ভক্তদের ইচ্ছেতে এবং সর্বোপরি মায়ের কৃপায় আমি সেই গোপনীয়তা কাটিয়ে নিজেকে সম্মুখে এনেছি। যাইহোক, কৃষ্ণপক্ষের মঙ্গলবার পৌঁছে গেছিলাম যোগাদ্যা সতীপীঠে (মায়ের ৫১ পীঠের মধ্যে একটি), প্রতিবারই ভক্তদের নিয়ে পৌঁছে যাই মায়ের কাছে আর মাও কৃপা করে আমাকে থাকতে দেন, প্রসাদ দেন এমনকি পূজা করবার সুযোগ দেন, এটাই জীবনে অনেক প্রাপ্তি। বলাবাহুল্য, এবারও ছুটে গেছিলাম মায়ের কাছে, মধ্যরাতে হোম শেষ করে ভক্তদের নিয়ে ফিরে এলাম আবাসনে। যদিও মধ্যরাতে সতীপীঠে দীর্ঘদিন হোম করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তবে এবার একেবারে মায়ের সামনের দালানেই হোম করার সুযোগ পেয়েছি, মা’ই দিয়েছেন সেই সুযোগ।

পরেরদিন ভোরবেলা মায়ের দর্শন, নিতপূজা সেরে মায়ের মন্দিরে পৌঁছে গেলাম জপের জন্য। কিছুক্ষণ পর এক ভক্ত এসে বললেন, “মহারাজ প্রাচীন মন্দিরটি দেখতে যাবো, আপনি যাবেন? আপনার সঙ্গে গেলে আমারও সৌভাগ্য হবে।” আমিও এই সুযোগ ছাড়িনি, কারণ বারবারই আসি তবে প্রত্যেকবার আদিমাকে দেখার সুযোগ হয়না। সেই ভক্তের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম মায়ের মন্দিরে, গিয়ে দেখি মন্দির খোলা, নিত্য পূজার জন্য সব আয়োজন হচ্ছে। মাকে দর্শন করার পর বেরিয়েই সেই ভক্তকে বললাম, “চলো বাবা, একটু মদনমোহনকে দর্শন করে আসি” (সচরাচর এই মন্দিরটি বন্ধ রাখা থাকে, তবে আজকে মন্দির খোলা রয়েছে) ভক্তের সঙ্গে মন্দিরে পৌঁছাতেই এক মা বললেন, “প্রসাদ খাবে?” এই সুবর্ণ সুযোগ কেউ হারায়! তাও আবার আমার গোপালের প্রসাদ। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, নিশ্চই, মা খাওয়ালে খাবো। সেই মা আমাদের দুজনকে প্রসাদ দিয়ে বললেন, “ধীরে ধীরে প্রসাদ খেয়ে, কিছুক্ষণ বসে তারপর যেও বাবা। আমি এই মন্দিরে সেবা করি, ভগবান যা জোটায় তাই দিয়ে।” আমিও উত্তরে বললাম, “যিনি রয়েছেন তিনিই সব করিয়ে নেবেন মা।”
এই বলে বেরোতেই কালু এগিয়ে এলো আমার দিকে, (সচরাচর আমি ভৈরব সেবা করতে ভীষন ভালোবাসি, কারণ এই সেবার ভাবটাও গুরু বাসুদেবের থেকে পাওয়া, গুরুদেবও এই ভাবেই সকলের সেবা করে গিয়েছেন।) তাকে দিলাম ওই অঞ্চলের মন্ডা মিষ্টি, একদম তৃপ্তি করে সেই প্রসাদ খেয়ে নিলো আর বাকি অংশটুকু আমি খেলাম। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল আমরা দুজনেই হয়তো ভাগ্যবান, মাধবের প্রসাদ পেয়ে, সবই মায়ের ইচ্ছে। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।
(মধ্যরাতের হোম করেছি, সেই মুহূর্তের একটি ছোট্ট ভিডিও করেছে আমার শিষ্য। সেটি তুলে ধরলাম আপনাদের সামনে। মায়ের কৃপা থাকলে সব সম্ভব, তাঁর কৃপা পাওয়াটাই আসল কথা।)