শ্রীনাথই ব্রহ্মস্বরূপ - Somanandanath
16636
wp-singular,post-template-default,single,single-post,postid-16636,single-format-standard,wp-theme-bridge,wp-child-theme-bridge-child,bridge-core-3.0.2,qode-page-transition-enabled,ajax_fade,page_not_loaded,,qode-child-theme-ver-1.0.0,qode-theme-ver-28.8,qode-theme-bridge,wpb-js-composer js-comp-ver-6.9.0,vc_responsive
 

শ্রীনাথই ব্রহ্মস্বরূপ

শ্রীনাথই ব্রহ্মস্বরূপ

~ কলমে সোমানন্দ নাথ

আমার মতে গুরুকে পূজা করবার সবচেয়ে দামি উপাদান ভক্তি, সমর্পণ এবং বিশ্বাস। গুরুর প্রতি পূর্ণ ভক্তি শ্রদ্ধা রেখে, গুরু বাক্যে সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে, তাঁর শ্রীচরণে নিজকে সমর্পণ করে গুরু বাক্যকে বেদবাক্য জ্ঞানে বিশ্বাস করতে পারলেই শিষ্যের গুরু পূজা সার্থক হবে। তবে এই পূজার আগে নিজেকে জানতে হবে গুরু কে? এর উত্তরে বলতে পারি, প্রতিটি জীবের আদি গুরু হলেন শিব, তিনিই অনাদি অনন্ত সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম। শিব কৃপা না করলে আপনি কখনই নিজ গুরুকে খুঁজে পাবেন না।

যাইহোক, গুরু কে শিষ্যরা কি দান করতে পারেন?? শাস্ত্রে গুরুকে নানান উপদান দানের উল্লেখ থাকলেও শিষ্য একমাত্র স্বরণাগতি দান করতে পারেন নিজ গুরুকে। কারণ এই অখণ্ড ব্রহ্মের শুরু থেকে শেষ যতদূর ব্যাপ্তি রয়েছে সেই জ্যোতি যিনি শিষ্যকে দর্শন করাতে পারেন তিনিই গুরু। ভারতের সনাতন হিন্দুধর্মে যতগুলি দিক রয়েছে সেই প্রতিটি দিকেই গুরুদেবের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কারণ গুরু ছাড়া সেই ইষ্টের দর্শন কেউই করাতে পারবেন না।

বলাবাহুল্য, সদ্গুরু হলেন স্বয়ং ব্রহ্মরূপ। তিনিই আনন্দ, জ্ঞান এবং করুণার সচল বিগ্রহ, তিনি শিষ্যের অন্তরে থাকা জীবাত্মার অধিপতি। আবার তিনিই শিষ্যের সমস্ত সমস্যা, দুঃখ এবং বাধা দূর করেন। তিনি শিষ্যকে ঐশ্বরিক পথের নির্দেশ দেন, দেন পারমার্থিক শান্তি। শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন, গুরু হলেন ঘটক, যিনি ভক্ত ভগবানের মিলন ঘটান।

তাই সঠিক শিষ্যের একমাত্র কর্তব্য নিজ গুরুর চরণ সেবা করা, নিজ গুরুর পথকে অনুসরণ করা এবং তাঁর আদর্শকে মেনে এগিয়ে যাওয়া। আমার বৈষ্ণব ধারার পরমগুরু আচার্যদেব জগদগুরু কৃপালুজী মহারাজ বলেছিলেন, “”গুরু ও গোবিন্দ দুজনেই যদি আমার সম্মুখে বিদ্যমান হয়, আমি আমার গুরুর প্রতিই কৃতজ্ঞ থাকব, কারণ তিনিই আমাকে গোবিন্দের দর্শন করিয়েছেন।” অর্থাৎ গুরু ছাড়া জগতে কিছু পাওয়াই অসম্ভব।

আবার আমার মন্ত্র গুরু সাধক দিব্যসুন্দর প্রভু (নাথ যোগী সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংসের স্নেহধন্য সন্তান) বলেন, “গুরু ভিন্ন কিছুই সম্ভব নয়, তাই সকল পূজার শুরুতে গুরুকে স্মরণ করা কর্তব্য, তবেই ইষ্টদেবকে পাওয়া সম্ভব।”

যে কোনো সাধকের প্রধান পূজা হল সঠিক উপাচারে গুরুপূজা সম্পন্ন করা। আমিও সেই পূর্বতন উচ্চকোটির সাধকের পথকে স্মরণ করে গুরু পূজায় নিজেকে নিয়োজিত রাখি। এদিন সমস্ত উপাচার নিয়ে পৌঁছে গেছিলাম মন্ত্রগুরুর কাছে, পূজার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে শ্রীনাথকে ডাকায় তিনি উপস্থিত হলেন, আমিও অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভক্তি পুষ্প দিয়ে পূজা করলাম। শুধু আমি নয়, আমার বেশিরভাগ গুরুভাই, গুরুবোন একসঙ্গে শ্রীনাথের পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি দিলাম।

মূল পূজা শেষে আরতি সম্পন্ন করে গুরু আজ্ঞা দিলেন, “তুই এগিয়ে চল, বাবা বাসুদেব তোকে দিয়েই বেশ কিছু কাজ করাবেন, এ আমার বিশ্বাস। কোনো কিছুতেই নিজেকে বিচলিত করবি না, তুই সঠিক পথে রয়েছিস, আর সঠিক রয়েছিস বলেই বাসুদেব বাবা এই ভাবে তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে তোর কাছে সমস্ত কিছু উপস্থিত করছেন।” আর গুরু আদেশ পেয়ে আরো উদ্যোমে বাবার কাজ শুরু করে দিলাম, আপনারাও নিজ নিজ গুরুর চরণ বন্দনা করুন তবেই মুক্তি ঘটবে।

Somananda Nath
roychoudhurysubhadip@gmail.com