14 Dec সাধু-ভক্ত সেবা
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
“জীব সবাই মূল পূজা, তিনি অন্তরে বিরাজমান, বাইরে খুঁজে কাজ কি?” এমন কথাই বারবার উল্লেখ করছেন আমাদের মাতৃ মিশনের অধ্যক্ষ। আমাদের গুরুদেবের কোথায়, “আমার জীবনের আরাধ্য তথা পরম গুরুদেব নাথ যোগী সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংস নিজেও এই জীব সেবাকে প্রধান বলেছেন। আর্ত মানুষের সেবার জন্য তিনি ছুটে গিয়েছেন বিদেশেও। বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেশের মানুষের যথা সাধ্য সাহায্য করেছেন। উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়িতে তৈরি করেছিলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। বহু বছর ধরে প্রথম সারির ডাক্তার এনে বিনামূল্যে সেবা করেছেন গ্রামবাসীকে। তাঁর এই পথকেই বেছে নিয়েছি আমি।” আমরা বগলামুখী মাতৃ মিশনের সদস্যবৃন্দ সবসময় চেষ্টা করি সাধারণ মানুষকে আমাদের সাধ্যমতো সেবা করতে।
সেই সেবা কখনও আমাদের গুরুদেবের আবির্ভাব তিথিতে হোক কিংবা কোনো পীঠ সংলগ্ন ক্ষেত্রে হোক। দীর্ঘ বহুবছর ধরে সাধারণ ভক্তদের মঙ্গলার্থের জন্য হোম করে চলেছেন আমাদের বগলামুখী মাতৃ মিশনের অধ্যক্ষ। সম্প্রতি গতকাল ছিল অগ্রহায়ণের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি এবং শ্রীশ্রী মহাকাল ভৈরবের আবির্ভাব তিথি। আমাদের শ্রীনাথ আমাদের জানালেন যে এই তিথিতে আমি চাই এই পীঠের সচল শিবদের কিছু শীতের বস্ত্র দিয়ে সেবা করতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে গুরুদেবের আদেশ মতন রেডি করে ফেললাম আয়োজন। ভক্ত শিষ্য মিলিয়ে সতীপীঠ কঙ্কালীতলা সংলগ্ন ক্ষেত্রে আয়োজন করলাম এই উৎসব।
শ্রীনাথ নিজে সাধু, ভক্তদের, সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিলেন শীতের এই সামান্য সেবা। এছাড়া, আমাদের আরাধ্য সাধক বাসুদেব বারবার তাঁর লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিকলাঙ্গ শিশুদের সাহায্য করতে চান। বাবার সেই আদর্শকে মাথায় নিয়ে আমরাও কিছু অসহায় মানুষের আমাদের সাধ্যমতো সেবা করবার চেষ্টা করলাম। আমাদের বিশ্বাস যে, এতেই মহাকাল সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর আমরা চাই সেই আশীর্বাদ আমাদের মাতৃ মিশনের সকল ভক্তকে তিনি দিন। আপনারাও জীব সেবা করুন, নিজেও ভালো থাকুন। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।