06 Oct আত্ম উপলব্ধি
জগতসংসারে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করুন জগজ্জননীর সেবায়, কারণ কলিযুগে তাঁকে পাওয়া যায় সবচেয়ে সহজ উপায়ে। ভক্তি-সেবা আর সরল বিশ্বাসের ওপর ভর করে তাঁকে সেবা করে চলুন স্মরণে এবং মননে। বাহ্যিক আড়ম্বর এবং সমস্ত চিন্তা অর্পণ করুন মায়ের রাতুল চরণে, আর ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করবার কৃপা চেয়ে নিন তাঁর থেকে।
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, বাধা-মুক্তি এই সমস্তটা নিয়েই সংসার। এই যাত্রাপালায় রঙ মেখে সঙ না সাজলে তার সংসারে থেকে কোন লাভ নেই। তাই আপনারা মায়ের আশীর্বাদী রঙ মাখুন সারা অঙ্গে আর তাঁর ভৃত্য হয়ে সঙ সাজুন তবেই মুক্তিলাভ সম্ভব।
কর্ম ছাড়া ধর্ম হয়না এই কথাটি যেমন সর্বতভাবে সঠিক ঠিক তেমনই সৎ কর্ম ছাড়া মুক্তিলাভ অসম্ভব এটিও সঠিক। এবার কর্ম করতে গেলে বিভিন্ন মানুষের সম্মুখীন হতে হবে এবং তাতে সামান্য আঘাত পেলেও পেতে পারেন। কিন্তু সেই আঘাতের কোন চিহ্নই আপনার শরীরে স্থায়ী হবে না যদি আপনি একচিত্তে জগজ্জননীকে ধরে রাখেন। মানব জন্ম পেয়ে এমন কিছু কর্ম করে যান যাতে স্থূলদেহ ছেড়ে গেলেও মানবের মনে আপনার স্থান চিরস্থায়ী হয়।
জীবের শ্রেষ্ঠ জন্ম হল মানব জন্ম, আর সেই জন্মে কর্মের পাশাপাশি ভগবান সেবা, ভক্তিমার্গে থেকে ঈশ্বরকথা শ্রবণ করা এবং নিজ অন্তরের অন্ধকারকে দূর করা এগুলি না করলে আপনার এ জন্ম বৃথা। কারণ মানব ছাড়া অন্য সমস্ত জন্মেই ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক রয়েছে, নেই শুধু কর্মফল এবং আত্ম উপলব্ধি। তাই সঠিক কর্ম করার পাশাপাশি নিজেকে চেনার চেষ্টা করুন। আর নিজেকে চিনতে পারলে তবেই ভগবানকে চিনতে পারবেন, কারণ আপনার অন্তরেই তাঁর বাস। তাই অযথা ভারাক্রান্ত না হয়ে জেগে উঠে মায়ের চরণে মনোনিবেশ করে কর্মে করে যান, জন্ম শেষে ভগবতী নিশ্চয়ই আপনাকে কৃপা করবেন।