26 Dec দারুব্রহ্মে লীন হলেন আমাদের সচল নীলমাধব (তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ ও ভাব ব্যাখ্যা)
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
গৌর গৌর গৌর হে, গৌর গৌর গৌর হে…….। এমন প্রচুর কীর্তন শুনে আজও বঙ্গবাসীর নয়ন ভরা জল দেখতে পাওয়া যায়, আকুল নয়নে কেঁদে যায় বহু ভক্ত। তার একটাই কারণ তারা নিমাই প্রেমী (আমাদের বঙ্গের রত্ন শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু)। আমাদের নদীয়ার নিমাই গোটা বঙ্গসমাজ সহ ভারতে ধর্মের বিপ্লব এনেছিলেন, যে বিপ্লবের হাতিয়ার ছিল প্রেম ও ত্যাগ। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবকে কজন চিনতে পেরেছেন? বা কজন ভাবেন তাঁর কথা? তিনি কোথায় গেলেন? কত ত্যাগ স্বীকার করে তিনি বাংলার জন্য রেখে গিয়েছিলেন কৃষ্ণ প্রেমের রসকথা, কজন ভেবেছেন? না, কেউ ভাবেননি। আর যাঁরা ভেবেছেন তাঁদের বেশিরভাগই মহাপ্রভুকে একতরফা আলোচনা করে গিয়েছেন, তাই সাধারণের কাছে আজ তিনি শুধুই শুধুই বিগ্রহ রূপে বিরাজমান। মহাপ্রভু কি সত্যিই শুধুমাত্র বিগ্রহ রূপে সেবা নিয়ে যাবেন ভক্তদের থেকে? তিনি যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিবর্তে প্রেমের বিপ্লব রচনা করলেন, যার প্রেমে হাবুডুবু খেলেন সমগ্র বঙ্গ সহ ভারত, শুধুই কি তিনি বিগ্রহ? না, তিনি আমাদের সচল নীল মাধব বা আপনারা খুব সহজেই তাঁকে সচল জগন্নাথ বলতেই পারেন। কারণ আজ বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, বাঙালির কাছে জগন্নাথকে পৌঁছে দিয়েছেন মহাপ্রভু। এক শবর জাতির সেবিত বিগ্রহই যে বংশীধারী কৃষ্ণ তা মহাপ্রভু ছাড়া আর কে বলতে পারতেন? না কেউ এমন কথা বলার মতন ছিলেন না সেসময়ে। তাই আমাদের আপামর বাঙালিদের উচিত আমাদের অমুল্য রত্ন সম্পদ মহাপ্রভুকে সঠিক বিচার করা। আমি আমার সীমিত জ্ঞান দিয়েই প্রভুকে তুলে ধরলাম পাঠকের কাছে, পড়ে দেখবেন কেমন লাগল।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সমাজে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে বহু মানুষ শুধুমাত্র কৃষ্ণের পূজক বলে উল্লেখ করেই ছেড়ে দেন। কিন্তু এত সম্পূর্ণ ভাবে সঠিক নয়, কারণ তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি তৎকালীন সময়ে বিখ্যাত ন্যায়শাস্ত্রবিদ। খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি এতটাই পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন যে সমগ্র ভারতের, বিশেষ করে উত্তর ভারতের বহু তাবড় তাবড় পণ্ডিত আসতেন তাঁর কাছে, পুঁথি সংশোধন করতে। কজন মনে রেখেছে সেকথা? না কেউ সেসব নিয়ে ভাবেই না। যাইহোক, আজও নদীয়ায় পৌঁছালে শোনা যাবে একটি শব্দ, সেটি হল “নিমাই পণ্ডিত”, এর অর্থ জানেন? মহাপ্রভু সেই সময়ে এতটাই জ্ঞানী ছিলেন সকলে তাঁকে পণ্ডিত বলতেন। এবার আসি মূল কথায়, প্রভু আমাদের শিখিয়েছেন জাতপাতের ভেদ ভুলে সঠিক ধর্মাচরণের পথ। তিনি এক ধর্মীয় নবজাগরণ ঘটিয়েছিলেন, যেখানে সঠিক ধর্মের পথে থাকলে একজন চণ্ডালও দ্বিজের শ্রেষ্ঠ হয়। কিন্তু কুসংস্কার আচ্ছন্ন গোঁড়া ব্রাহ্মণ সমাজ মেনে নেবে কেন? তখন তাঁরা মহাপ্রভুর বিরোধিতা শুরু করলেন এবং সমাজে একটি প্রবাদ ছড়িয়ে দিলেন “ন্যাকা চৈতন্য”, এই প্রবাদ আজও কমবেশি শোনা যায় বৈকি। কিন্তু তাতে লাভ কি? কিছুই না, কারণ ধর্মীয় গোঁড়ামি কোনোদিনই বাঙালি মেনে নেয়নি আর আজও নয়না। তাছাড়া, চৈতন্যদেব নিজেই কুলীন রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণ ছিলেন (মিশ্র উপাধি), ৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে পাঁচ বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ বঙ্গে এসেছিলেন পুত্রেষ্ঠী যজ্ঞ করতে তাঁর মধ্যে মহাপ্রভুর পূর্ব পুরুষও ছিলেন। এবার আসি, কিছু অসাধু ব্রাহ্মণের কথায়। কজন সঠিক ব্রাহ্মণ? কজন সঠিক বেদপাঠ, সঠিক মন্ত্র উচ্চারণ, সঠিক পূজা করা এমনকি কোনরূপ নেশা ছাড়াই পারমার্থিক নেশায় মত্ত থেকে ঈশ্বরের সেবা করেছেন? তৎকালীন সময়েও নেশাগ্রস্ত ব্রাহ্মণ ছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে শুধু মহাপ্রভু নন বহু বিদ্যাসাগর সহ বহু তাবড় তাবড় পণ্ডিত আওয়াজ তুলেছিলেন। সতীদাহ প্রথার প্রচলন তো ব্রাহ্মণ সমাজ করেছিলেন, এর কারণ কি? এর মূল কারণ হল মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি দখল এবং অন্তরে কুবের হওয়ার সুপ্ত বাসনা। সেই সময় তো বহু কুলীন ব্রাহ্মণ ১০০, ১৫০, ২০০ থেকে শুরু করে হাজার হাজার বিবাহ করত তাতে পণপ্রথাও ছিল। এর কারণ কি? সেখানেও কন্যার বাড়ির জমি, সম্পত্তি, অর্থ লুট করা এবং নিজেদের ধনকুবের ভাবা। তাহলে এমন ব্রাহ্মণের সমাজে প্রয়োজন কি? যাঁরা সঠিক দেবতার সেবা করেন না, যাঁরা আপদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত, যাঁদের সারাদিন কাজ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা, তাঁদের সমাজে প্রয়োজন কি? আমি তো মনে করি, মহাপ্রভু সেই সমস্ত ব্রাহ্মণের মুখে সঠিক জবাব দিয়েছিলেন।
এবার আসি, বর্তমান ব্রাহ্মণ সমাজের কথা। পুরানো দিনের সেই গলদ আজও ভয়ংকর রূপে বর্তমান। অতীতে নেশাগ্রস্ত ব্রাহ্মণ ১০ শতাংশ থাকলে বর্তমানে ৮০ শতাংশ ব্রাহ্মণই জাগতিক নেশায় মত্ত। যে ব্রাহ্মণ নিজ হাতে দেবতার পূজা করে আবার সেই হাতে নেশার পত্র তুলে নেয় এমন ব্রাহ্মণের কোনো প্রয়োজন নেই সমাজে। তাই এই সময়েও এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত। যাইহোক, মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব আপামর বাঙালিকে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, প্রেম-ভক্তিতেই দেবতা সন্তুষ্ট হন। আপামর বাংলার মানুষকে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে দেবতা নিজ অন্তরে বিরাজমান, তাঁকে জাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এবার আসি, প্রভুর শ্রীক্ষেত্র দর্শন এবং সেখানেই শেষ লীলা রচনা করার বিষয়। উড়িষ্যায় প্রভু জগন্নাথ ছিলেন শবর জাতির দেবতা। মহাপ্রভু সেই জগন্নাথকেই কৃষ্ণরূপে দেখিয়েছেন, আর আজ আমরা সেই রস আস্বাদন করছি। কজন বাঙালি মহাপ্রভুর আগে জগন্নাথকে চিনতেন? না, কেউই চিনতেন না, বা চিনলেও সেই নাম প্রচারের জায়গায় নিয়ে যেতে পারেননি, যেটি প্রভু পেরেছিলেন। স্বয়ং গজপতি মহারাজ তাঁর এই প্রেম ভাবে বিভোর হয়ে নিজেকে মহাপ্রভুর চরণে অর্পণ করেছিলেন। সেখানেও মন্দিরের সেবায়েত বিশেষ করে সেই গোঁড়া ব্রাহ্মণের রোষের মুখে পড়েন মহাপ্রভু। আজ যে মহাত্মার বিগ্রহ স্বর্গদ্বার অঞ্চলে বিরাজমান, সেইসময় কি এতটাই স্বাভাবিক ছিল সব কিছু? না, কারণ সমগ্র বাংলা যেমন মহাপ্রভুর প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খেয়েছিলেন, ঠিক তেমনই উড়িষ্যাবাসীও তাই হয়েছিল। সেটাই তৎকালীন উড়িষ্যার ব্রাহ্মণের ক্ষোভের প্রধান কারণ। লিঙ্গরাজ মন্দিরের সেবায়েত থেকে শুরু করে জগন্নাথ মন্দিরের অধিকাংশ সেবায়েত প্রভুর বিরুদ্ধাচারণ করতে সবসময় এগিয়ে ছিলেন। এর কারণ কি?
খুব ভালোভাবে অনুধাবন করলেই বোঝা যাবে, এর প্রধান কারণ প্রভু উড়িষ্যায় আসায় তাঁদের ব্যবসায় ভাটা পড়তে শুরু করে। তাঁরা সাধারণ মানুষকে যে মিথ্যার সাগরে ডুবিয়েছিলেন, সেই রাস্তা ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছিল। সমগ্র উড়িষ্যার সাধারণ মানুষ মহাপ্রভুর প্রেমের সাগরে অমৃতময় আনন্দ পেতে শুরু করেছিলেন। সাধারণত, উড়িষ্যায় মহাপ্রভুর একমাত্র গন্তব্য ছিল জগন্নাথের শ্রীমন্দির। এমন বহুদিন হয়েছে মন্দিরের গম্বুজকে জড়িয়ে ধরে তিনি অঝোর নয়নে কেঁদে গিয়েছেন জগন্নাথ দর্শন করতে করতে, তাঁর কীর্তন শুনে স্বয়ং জগন্নাথ মোহিত হতেন, কজন উড়িষ্যা
গোঁড়া ব্রাহ্মণ পেরেছেন এমন করতে? না, আমাদের কালিয়াকে মহাপ্রভু ছাড়া সেই জায়গা কেউ দিতে পারেন নি, আর পারবেনও না। তবে বাংলা থেকে উড়িষ্যায় গিয়েও প্রভুর শত্রু কমল না?
এর খুব সহজ উত্তর হল না, সৎ ধার্মিক মানুষের সবসময়ই শত্রু থাকে। সমাজ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি! ধর্মীয় গোঁড়ামি ভেঙে দেওয়া কি খুব সহজ ছিল বলে মনে হয়? একেবারেই না। যে মন্দির সহ সমগ্র ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মনে এতদিন ধরে গেঁথে দেওয়া বেশ কিছু কুসংস্কার সেই প্রথায় আর কেউ বিশ্বাস করছে না, সকলেই এক গেরুয়াধারী গৌড়ীয় সন্ন্যাসীর প্রেমের দৃষ্টিতে ঈশ্বর দেখছেন, এটাই তো তৎকালীন গোঁড়া ব্রাহ্মণের মাথাব্যথার কারণ।
উল্লেখ্য, জগন্নাথের রথযাত্রার সময় মহাপ্রভু এতটাই ভাবিত হয়ে কীর্তন করতে করতে পদযাত্রার সম্মুখে থাকতেন এটাই ব্রাহ্মণদের ঈর্ষার কারণ। আবার অন্যদিকে, যে সাতটি দলে বিভক্ত হয়ে সকল গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা কীর্তন করতেন রথে তাঁরা সকলেই চাইতেন তাঁদের দলে মহাপ্রভু এসে কীর্তন করুক। প্রভু তাদের ইছেও পূর্ণ করেছেন, তখন সকলেই ভাবতো তাঁর দলে প্রভু কীর্তন করছেন, সচল দেবতা এমনই হয়। তবে প্রভুর সব লীলা স্মরণ হলেও শেষ উনি কোথায় গেলেন তার সন্ধান কেউ করেননি। আর কজন করেছেন তাদের প্রত্যেকের অদ্ভুত ভাবে মৃত্যু হয়েছে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ গবেষকের পুরীর ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে! তাহলে কি পুরীতে কোনোভাবে গোঁড়াদের হাতে…..
মহাপ্রভুর শেষ লীলা প্রসঙ্গে বহু বৈষ্ণব গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে নানান তথ্য। প্রথম তথ্য: মহাপ্রভুকে শেষবার জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করতে দেখা যায়, তারপর আর দেখা যায়নি। প্রভু দারুব্রহ্মে লীন হয়েছেন। দ্বিতীয় তথ্য: কীর্তন করতে করতে প্রভুর এক শ্রীপদ গজালবিদ্ধ হয়, আর সেই অবস্থায় প্রভু সমুদ্রে চলে যান, আর ফিরে আসেননি। তৃতীয় তথ্য: মহাপ্রভু সেই গজালবিদ্ধ অবস্থায় টোটাগোপীনাথ মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং শ্রীগোপীনাথে তিনি লীন হন। কিন্তু যে বিষয়টি আমরা একদম এড়িয়ে যাই সেটি হল তাঁর এত সামাজিক শত্রু থাকতে তারা এমনি এমনি প্রভুকে ছেড়ে দিয়েছিলেন কি? উড়িষ্যার গোঁড়া ব্রাহ্মণ প্রভুর কোনো ক্ষতি করেননি? তাছাড়া, প্রভুর শরীর সেসময় এতটাই দুর্বল ছিল যে তারা এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগান নি? যাঁর কারণে তাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়েছিল, যিনি সমস্ত উড়িষ্যাবাসীকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে গোঁড়াদের শিক্ষা দিয়েছিলেন, তারা এত সহজে মহাপ্রভুকে জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহে যেতে দিলেন? দেখুন, ধর্মীয় ভাব অবশ্যই ভালো, কিন্তু বাঙালিদের কাছে প্রাণের গৌরাঙ্গের শেষ লীলা কি হয়েছিল সেই নিয়েও পর্যাপ্ত তথ্য থাকা জরুরি। কারণ, যিনি আমাদের বাঙালির জন্য ধর্মের এক পথ উন্মোচন করেছিলেন, আমাদের কর্তব্য প্রভুর শ্রীচরণে সঠিক শ্রদ্ধা রেখে তাঁর সমগ্র জীবনের সঠিক পর্যালোচনা করা।
যিনি পতিতপাবনের এক গুপ্ত দিক উন্মোচিত করলেন সাধারণের সামনে, তাঁর যোগ্য সম্মান কি পেলেন? না, অন্তত উড়িষ্যায় সেসময় সঠিক বিচার পাননি প্রভু। প্রেমের অমৃতকুম্ভ যিনি দান করে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষকে আমাদের উচিত তাঁর প্রতি হওয়া প্রতিটি কর্মের সঠিক উত্তর নেওয়া। কিন্তু নেবে কে? কারণ অতীতে যারাই সে কাজ করেছেন তাঁদেরই উড়িষ্যার গোঁড়া ব্রাহ্মণের ক্রোধের মুখে পড়তে হয়েছে। সত্যি বলতে, এখনও বাঙালিকে খুব সহজে মেনে নিতেও উড়িষ্যার মন্দিরের পাণ্ডাদের কষ্ট হয়। যেহেতু বাঙালি সবচেয়ে বেশি উড়িষ্যায় যান সেই ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা ভেবে চুপ থাকেন। যাইহোক, আমার এই দীর্ঘ লেখার পেছনে একটাই উদ্দেশ্য পাঠকরা সঠিক পর্যালোচনা করবেন এবং প্রভু জগন্নাথের কাছে প্রার্থনা করবেন যে সঠিক ইতিহাস যেন একদিন উন্মোচিত হয় কারণ ইতিহাসকে বেশিদিন চেপে রাখা যায়না।
প্রভু আপনি আজও রয়েছেন আমাদের অন্তরে, আপনি ছিলেন বলেই আমরা জগন্নাথকে পেয়েছি, আমরা দারুব্রহ্মের দর্শন করতে পারি শুধুমাত্র আপনার কৃপার জন্য। আপনি আমাকেও কৃপা করবেন যাতে আমি গুরু চরণে থেকে মাকে পাই।