কলকাতার দুর্গাপুজো ও বগলামুখী মাতৃমিশন - Somanandanath
15611
wp-singular,post-template-default,single,single-post,postid-15611,single-format-standard,wp-theme-bridge,wp-child-theme-bridge-child,bridge-core-3.0.2,qode-page-transition-enabled,ajax_fade,page_not_loaded,,qode-child-theme-ver-1.0.0,qode-theme-ver-28.8,qode-theme-bridge,wpb-js-composer js-comp-ver-6.9.0,vc_responsive
 

কলকাতার দুর্গাপুজো ও বগলামুখী মাতৃমিশন

কলকাতার দুর্গাপুজো ও বগলামুখী মাতৃমিশন

ভারত তথা বিশ্বের ইতিহাসে কলকাতা দুর্গাপুজোর আড়ম্বরতা চোখে পড়ার মতন। দেশ বিদেশের পুজোপ্রেমী এবং বাঙালিরা একবছর অপেক্ষা করে থাকেন কলকাতার দুর্গাপুজোর আমেজ উপভোগ করতে। যারা সেই সময় দেশে ফেরেন তাদের আনন্দ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায় আর যারা বিদেশেই থাকেন তারা ওই অঞ্চলের দুর্গাপুজোয় যুক্ত থেকে কলকাতার আমেজ উপভোগের চেষ্টা করেন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন মহোৎসবগুলির অন্যতম শারদীয়া মহাপূজা। দুর্গাপুজো বাংলায় বহুপ্রাচীন হলেও যত দিন এগোচ্ছে ততই দুর্গাপুজোর আড়ম্বর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বারোয়ারি পুজো মণ্ডপের পাশাপাশি বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালানে সাবেকি পুজোর আমেজ- যা চেটেপুটে উপভোগ করতে তৈরি আট থেকে আশি সকলেই।
অতীতে দুর্গার চণ্ডীরূপের আরাধনা বেশি প্রচলিত হলেও পরবর্তীকালে দশভুজা সপরিবার দুর্গার আরাধনাই প্রধান হয়ে ওঠে। কলকাতার প্রথম দুর্গাপুজো ১৬১০ সালে সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের বাড়ি থেকে শুরু হলেও পরবর্তীকালে শোভাবাজার রাজবাড়ি, লাহাবাড়ি, চন্দ্রবাড়ি, মিত্রবাড়ি, দত্তবাড়ি ইত্যাদি বনেদিবাড়িতেও শুরু হয় উমা আরাধনা। আর তারপর বারোয়ারি পুজোয় সকলের অংশগ্রহণ এবং তা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে কলকাতায় বারোয়ারি পুজোর সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

তবে কলকাতা তথা পশ্চিমবাংলায় এক অনন্য দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ কলকাতার বগলামুখী মাতৃমিশনে। মাতৃমিশনের সঙ্ঘাধ্যক্ষ মাতৃসাধক সোমানন্দ নাথ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন তবে একেবারেই ভিন্ন স্বরূপে। আমরা মার্কেণ্ডেয় চণ্ডীতে দেবীর ধ্যানের শেষ অংশে অসুরদলনী দেবী বগলার কিছু উল্লেখ পেয়ে থাকি। তাই অষ্টম মহাবিদ্যা বগলামুখী স্বয়ং দুর্গাস্বরূপা- এমনই বিশ্বাস মাতৃসাধকের। শুধু তাই নয়, তিনিই এক এবং অদ্বিতীয়, তার মধ্যেই সমস্ত রূপের ছোঁয়া মেলে এমনই বিশ্বাস তাঁর।
সাধারণত ব্রহ্মের উপাসকরা এমনই হন, তাঁরা নিজ নিজ আরাধ্যের মধ্যেই সকলকে দেখতে পান। কলকাতার এই মায়ের বাড়িতে দেবীর সমস্ত রূপের পূজা হয় কিন্তু তা ওনার স্বরূপেই। অর্থাৎ, দেবী দুর্গাও পূজিতা হন পীতাম্বরী স্বরূপে, ধুমধাম করে। দুর্গাপুজোর সমস্ত আচার পালিত হয় কলকাতার এই মাতৃমিশনে। ষষ্ঠীর চণ্ডীপুজো থেকে সপ্তমীর মহাস্নান, মহাষ্টমীর সন্ধিপূজায় ১০৮ প্রদীপ ও পদ্ম দান, ধুনো পোড়ানো, মহানবমীর দিন কুমারীপুজো, হোম এবং রাজকীয় ভোগ সমস্ত কিছুই পালিত হয় এখানে।
বগলামুখী মাতৃমিশনে প্রতিদিনই মাকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। আর দুর্গাপুজোর ভোগে থাকে- পোলাও, সাদাভাত, নানান ভাজা, তরকারি, তিনরকমের মাছ, হাঁসের ডিম, চাটনি, পায়েস, মিষ্টি ইত্যাদি। তবে দশমীর দিন কোনরূপ বিসর্জন কৃত্ত সম্পন্ন হয় না, কারণ এখানে মা প্রতিষ্ঠিতা তাই দশমীর ঢাকের বোলও বাজানো নিষেধ এখানে। মহালয়ার পরের দিন থেকেই প্রতিদিন চণ্ডীপাঠ এবং ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় দেবীর ঘট প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়।

তবে শুধু পূজাপাঠেই থেকে থাকে না মাতৃমিশন। মহাপূজার মধ্যে কিংবা পূজা শেষেই দুঃস্থ মানুষের সেবার্থে নানান সেবামূলক ক্রিয়া আয়োজন করা হয়, কারণ মাতৃসাধকের বিশ্বাস- প্রতিটি জীবের মধ্যেই তাঁর অবস্থান, তাই শিবসেবাই প্রধান তাঁর কাছে। আপনারাও আসুন বগলামুখী মাতৃমিশনে এবং উপভোগ করে যান মায়ের মহিমা। আর যারা আসতে পারছেন না তারাও অনলাইনে মাকে দর্শন করুন এবং প্রসাদ নিজের বাড়িতেই পান।

True social service in one's own field brings spiritual peace.
Somananda Nath
roychoudhurysubhadip@gmail.com