24 Oct গুরু কৃপায় সব সম্ভব
কলমে সোমানন্দ নাথ
অন্তর থেকে চাইলে মা ঠিক দর্শন দেবেনই, এ বাক্য অতীতে বহু উচ্চকোটির সাধকেরা প্রমাণ করেছেন। আর সর্বোপরি গুরুর কৃপা থাকলে জগতে সবই সম্ভব, বলা যায় অসম্ভবও সম্ভব হয় গুরুর আশীর্বাদে।
বহুবছর ধরে নিজের বসত বাড়িতেই সিদ্ধবিদ্যা মহামায়া বগলার ওপরই সমস্ত দেবীর পুজো করায় বারোয়ারী পুজো দেখার সময় কিংবা সুযোগ খুব কমই হয়। তবে কালীপুজোতে প্রতিবারই খুব ইচ্ছে হয় আমার এক সময়ের আশ্রয়স্থল কালীঘাট মহাশ্মশানের মাকে দেখার। আর মন চাইলে মা সবই দেন, অতীতে শিষ্যদের নিয়ে মায়ের দর্শনে গেছি, কখনও ভক্তদের সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে মাকে দেখে এসেছি। এবার ভেবেই নিয়েছিলাম যে, এই বছরটা মনে হয় বাদ রইল মায়ের দর্শন থেকে।
কিন্তু, বিশ্বাস ছিল যে গুরুর চরণ ধরে থাকে, যার মাথায় সর্বোপরি সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংসের আশীর্বাদ রয়েছে তার চিন্তা কি? ভক্তের পূজায় যেতে যেতেই এক শিষ্য বললেন, গুরুদেব চলুন মা দাঁড়িয়ে রয়েছেন এখনও, আপনার সঙ্গে দেখা করবেন বলে। তৎক্ষণাৎ শিষ্য অর্জুনানন্দকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই ছুটলাম মাকে দেখবো বলে। গিয়ে দেখি দিব্যি জ্যোতির্ময়ী দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভক্তকে দর্শন দেবেন বলে।
মুহুর্তের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেল- মা যাকে ধরে থাকে তার ভয় কি? যার মাথায় ব্রহ্মময়ীর আশীর্বাদ রয়েছে, কুলদেবী কালিকার স্নেহ রয়েছে এবং সর্বোপরি ইষ্টদেবী মা বগলার কৃপা রয়েছে তার সব ইচ্ছেই সফল হবে। এক ভক্তের কাছে মায়ের প্রসাদী ফুল চাইতেই, তিনি এক্কেবারে শ্রীচরণ থেকে জবাফুল এনে দিলেন। এবার মাকে দর্শন করেই কর্মে রওনা দিলাম। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।
সবসময় আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, গুরুর চরণ, আচার্যের চরণ ধরে থাকলে এই জগতে সব পাওয়া যায়। আর আমার বংশে প্রায় ১১টির বেশী কালী মন্দির রয়েছে, রয়েছে একাধিক মহাসাধকের ছোঁয়া, তাই ভয় না পেয়ে সকল ভক্তকেই এগিয়ে যেতে হবে তাঁকে পেতে, তবেই মুক্তি হবে।
মুহুর্তের মধ্যে ক্যামেরাবন্দী করলাম আমার আনন্দময়ীর রূপ। আর মনে মনে বলতে লাগলাম “মা যার আনন্দময়ী সেকি নিরানন্দে থাকে?”