25 Feb গুরু কৃপা
~ কলমে সোমানন্দ নাথ
গুরু কৃপায় সব সম্ভব, এ কথা আমি আমার জীবনে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি এবং বলা যায় গুরুদেবের বলা কথা গুলি অক্ষরে অক্ষরে জীবনে ফলে যায়। বাবা একদিন বলেছিলেন, “গুরুদেব (সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংস) তোকে আগলে রেখেছেন এবং দেখবি তোকে দিয়েই উনি আরও অনেক অনেক মায়ের কাজ করাবেন।” আমার জীবনে আগে এবং আজ প্রতি মুহূর্তে আমি সেই আশীর্বাদগুলি মনে করি।
আমার আরও এক আচার্যদেব বলতেন, “গুরু যাকে মনে রাখেন তার আর চিন্তা নেই, সে এমনই পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু গুরুকে যে শিষ্য বারবার তার কথা মনে করান তাকে এখনও সাধন ভজন সঠিক ভাবে করা দরকার।” আচার্যের সেই কথা মতন আমি আমার জীবনে আমি যাদের গুরু রূপে পেয়েছি তাঁদের কৃপা এতটাই আমার ওপর যে আমি প্রতি মুহূর্তে সেই কৃপা উপলব্ধি করি। জীবনে কোনো ক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে কিংবা কোনো পীঠে গেলে গুরুর কৃপায় সেখানে কোনো না কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে। বহু ভক্ত প্রশ্ন করেন যে, মহারাজ এমন লীলা কিভাবে সম্ভব! আমার সেক্ষেত্রে একটাই উত্তর গুরু কৃপা। তাঁর কৃপায় জগতের সবকিছু পাওয়া সম্ভব। গুরুর কৃপা পেলেই মাকে পাওয়া যাবে, তাই সবার আগে দরকার গুরুর শ্রীচরণ। তাঁর শ্রীচরণ ধরতে পারলেই মা আশীর্বাদ করবেন, কারণ কলিতে গুরু সেবাই সর্বপ্রথম দরকার।
সম্প্রতি আমার আরাধ্য নাথ যোগী সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংসকে নিয়ে আমি একটি গবেষণা মূলক গ্রন্থ রচনা করি “অন্তরের বাসুদেব: এক আত্ম উপলব্ধি” (বইটি সম্প্রতি FlipKart এ পাওয়া যাচ্ছে, এবং কিছুদিন পর কলেজস্ট্রিস্ট এও পাওয়া যাবে)। গ্রন্থটি সাধক বাসুদেবের স্নেহধন্য সাধক দিব্যসুন্দর প্রভু ( আমার শ্রীনাথ) [ সাধক শ্রীমৎ বাসুদেব পরমহংস একমাত্র দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন এই পরম্পরা ধরে রাখতে] এবং সমস্ত ভক্তকে উৎসর্গ করেছি যারা সত্যি চান যে গুরুদেব সমগ্র বিশ্বের কাছে পৌঁছে যান, তাঁর কাজ, তাঁর সৃষ্টি সকলে পড়ুক, জানুক। বইটি সম্প্রতি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে বহু পাঠক বলেছেন সেই কথা।
বইটি স্বার্থক রূপ পেল যে আমি শ্রীনাথের হতে তুলে দিলাম। আগামীদিনে সাধক বাসুদেবকে নিয়ে আরো আরো গ্রন্থ প্রকাশিত হবে এবং বাসুদেব পরমহংসের অপ্রকাশিত তথ্য, অপ্রকাশিত সাধনা যা গুরুদেব লিখে গিয়েছেন সেই তথ্য নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করব। আমার শ্রীনাথ আগেও বলেছেন আর বইটি হাতে পেয়েই বললেন, “গুরুদেব তোকেই এই জিনিস দেবেন তোকে তো বলেছিলাম আগেই। তোর অনেক দায়িত্ব, গোটা ভারতে এবং বাইরে গুরুদেবকে পৌঁছে দিবি। তোর ওপর বাসুদেব বাবার বিশেষ কৃপা রয়েছে, কে কি বলল কে কি করল কে কটা কথা বলল সেই দিকে চিন্তা করিস কেন? এমন কথা তো গুরুদেবও শুনেছেন বহুবার, সেই নিয়ে পড়ে থেকেছেন? তাহলে তুই পড়ে না থেকে মায়ের কাজ কর।” আর গুরু আজ্ঞা বেদবানীর মতন, তাই আমিও সেই কাজ করে চলেছি।
আপনারাও পড়ুন “অন্তরের বাসুদেব: এক আত্ম উপলব্ধি” গ্রন্থটি, জানাবেন কেমন লাগল। বইটিতে বহু এমন তথ্য পাবেন যা আগে কখনও দেখেন নি বা জানেন না। বইটিতে আমার রচনা করা সাধক বাসুদেবের ১০৮টি নাম, ধ্যান, পাঁচালি পাবেন। বইটিতে সাধক বাসুদেবের আঁকা ছবি, লেখা চিঠি এবং আরও অনেক অনেক তথ্য পাবেন। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।