04 Oct সোমানন্দের গৃহদেবী মা চণ্ডী
“ত্বং দেবী জগন্মাতো জগদানন্দ দয়াময়ী
রক্ষো মাং সর্ব্বদা প্রসীদ পরমেশ্বরী।
দোহাই মা চণ্ডী, দোহাই মা চণ্ডী, দোহাই মা চণ্ডী”
কলকাতার ঐতিহ্যশালী পুজোগুলির অন্যতম বড়িশার চণ্ডীপুজো। ঐতিহাসিক এই পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবারই বিরাট মেলার আয়োজন করা হয়। এই চণ্ডীপুজো বর্তমান সাধক মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরী মহাশয়ের পুজো হিসাবেই পরিচিত। আগে পাঁঠাবলি এবং মোষবলিও হত এই পুজোয়। তবে মূর্তি পুজোটি বর্তমানে সর্বজনীন পুজোয় পরিণত হলেও দেবী চণ্ডীর অষ্টধাতুর কলসী আজও রায় চৌধুরীদের বাড়িতে পুজো পায়।
কথিত আছে, কালীঘাট কালীমন্দিরের বর্তমান প্রতিষ্ঠাতা শিবদেব ওরফে সন্তোষ রায় চৌধুরীর পুত্র মহেশচন্দ্র মাতৃসাধক ছিলেন। তাঁর বসতবাড়ি সংলগ্ন একটি পুকুরেই অষ্টধাতুর একটি কলসী পেয়েছিলেন। আর দেবীর আদেশে তিনি সেই কলসি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ওই পুকুর চণ্ডীপুকুর নামে পরিচিত। প্রাচীন সেই কলসিতে পরানো হয় বেনারসি শাড়ি এবং তার ওপরে রাখা আছে সিঁদুর লাগানো শিষ ডাব। ডাবে রুপোর চোখ, শিষে সোনার নথ-সহ নানান পারিবারিক অলঙ্কার এবং মাথায় মুকুট। সারাবছর চৌধুরীদের বসতবাড়িতে দেবী পুজো পেলেও অগ্রহায়ণের শুক্লপক্ষের অষ্টমী, নবমী এবং দশমীতে বিগ্রহ নির্মাণ করে পুজো হয়। এছাড়া পুজোকে কেন্দ্র করে বিরাট মেলার আয়োজন করা হয়।
কথিত আছে শক্তিরূপা মাহেশ্বরী চণ্ডীর মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রাচীন বটবৃক্ষ কেটে ফেলার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই মহেশচন্দ্র পরলোকগমন করেন। তাঁর সুযোগ্য পুত্র হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী পিতার সেই কাজ সম্পন্ন করেন। একসময়ে মোষ বলি হত ৫০/৬০ কোপে। সন্ন্যাসী কামার আসত মোষ বলি দিতে। সারা গ্রাম বলির মোষকে ছুটিয়ে ক্লান্ত মোষকে হাড়িকাঠে ফেলা হত। রায় চৌধুরীদের বর্তমান পুরুষ নন্দদুলাল রায় চৌধুরী এই বলিদান বন্ধ করেন।
অতীতে এই চণ্ডীমেলায় বসত সার্কাস, পুতুল নাচের আসর ৷ সার্কাসে বাঘের খেলা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া, চণ্ডীপুজো ঘিরে যে সাংস্কতিক অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এই প্রজন্মও। রবিশঙ্কর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, মান্না দে, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, অংশুমান, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন মনোময়, শ্রীরাধা, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, শম্পা কুণ্ডুর মতো তাবড় তাবড় শিল্পীরা ৷