প্রথম অমাবস্যায় দেবী নান্দিকেশ্বরীর কাছে - Somanandanath
16668
wp-singular,post-template-default,single,single-post,postid-16668,single-format-standard,wp-theme-bridge,wp-child-theme-bridge-child,bridge-core-3.0.2,qode-page-transition-enabled,ajax_fade,page_not_loaded,,qode-child-theme-ver-1.0.0,qode-theme-ver-28.8,qode-theme-bridge,wpb-js-composer js-comp-ver-6.9.0,vc_responsive
 

প্রথম অমাবস্যায় দেবী নান্দিকেশ্বরীর কাছে

প্রথম অমাবস্যায় দেবী নান্দিকেশ্বরীর কাছে

~ কলমে সোমানন্দ নাথ

পূর্বজন্মে কিছু শুভ কাজ করেছি, সেই কারণে এই জনমে মা আমাকে সর্বদিক থেকে অহেতুকী কৃপা করে চলেছেন। কোনোদিনও বুঝতে দেননি যে তিনি নেই, সবসময় অনুভব করিয়েছেন যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান।

আজ ইংরেজি বছরের প্রথম অমাবস্যা, আর এই অমাবস্যায় স্বয়ং সাঁইথিয়ার নান্দিকেশ্বরী মা তাঁর ক্ষেত্রে নিয়ে গেলেন, তার ক্ষেত্রের মধ্যেই সুযোগ দিলেন দেবী চণ্ডিকার পূজা এবং বিশেষ হোম সম্পন্ন করার।

বলাবাহুল্য, মায়ের কৃপায় এবং গুরুর আশীর্বাদে আমার ভক্তের অভাব নেই, বরং আমি সময় দিতেই পারিনা সকলকে। সেই কারণে আমি বারবার আমার অক্ষমতা স্বীকার করি যে, সকলকে আমি সময় দিতে পারিনা। মহামায়ার কৃপায় আমার সাঁইথিয়া থেকে ভক্তরা ডেকেছিলেন তাদের বাস্তুবন্ধন এবং আরও কয়েকটি কর্মের জন্য। আর আমিও শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে চলে এলাম দেবী নান্দিকেশ্বরীর কাছে, তাও বছরের প্রথম অমাবস্যায়।

গতকাল মহামায়া বগলার আবির্ভাব তিথি ছিল, তাই বগলামুখী মাতৃ মিশনে সারাদিন রাত ব্যাপী এত ভক্ত সমাগম হয়েছিল যে উৎসব শেষ হতে প্রায় রাত ১১টা হয়ে যায়। মাঝরাতে উঠে নিত্য পূজা সেরে বেরিয়ে পড়লাম সতীপীঠের উদ্দেশ্যে, গন্তব্যে সাঁইথিয়া। আর বেলা গড়াতেই শুরু হল আমাদের পূজার প্রস্তুতি। ভক্তের গৃহে বসানো হল দেবী চণ্ডীর ঘট, সাজিয়ে ফেলা হল ষোড়শোপচার এবং অন্য সামগ্রী। সব জোগাড় শেষে বসে পড়লাম মায়ের পূজায়, বিশেষ ভোগ সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হল অমাবস্যার বিশেষ দীপদান।

দীপদান শেষে বসে পড়লাম হোম করতে। এদিন হোমের এক বিশেষ দ্রষ্টব্য ছিল যে, ভক্তদের বললাম আজ একসঙ্গে দুটি কুণ্ডে হোম করব। এরও একটি উদ্দেশ্য ছিল আমার।

দেবী চণ্ডীর হোম করার সৌভাগ্য বিরাট আমার, কিন্তু কলিযুগে দেবী চণ্ডিকাই হলেন মহামায়া বগলামুখী। তাই আরও একটি কুণ্ডে দেবী পীতাম্বরীর বিশেষ হোম শুরু করলাম। একসঙ্গে টানা কিছুক্ষণ হোম চলল, চলল তন্ত্রের প্রয়োগ।

হোম শেষ করে মায়ের প্রসাদ পেয়েই বেরিয়ে পড়লাম দেবী নান্দিকেশ্বরীর দর্শনে। কারণ তাঁর ক্ষেত্রে তিনি হোম, পূজার সুযোগ করে দিয়েছেন তাও বছরের শুরুর অমাবস্যায়, তাঁকে দর্শন না করলে হয়? না, একেবারেই হয়না। পীঠক্ষেত্রে মূল পীঠাধীশ্বরীকে দর্শন করা প্রত্যেকের উচিত।

মাকে দেখতে এসেই পূজার ডালি নিয়ে পৌঁছে গেলাম তাঁর কাছে। দেখলাম হাসি মুখে বসে রয়েছেন আমার রাজরাজেশ্বারী। পূজা দিয়ে কিছুক্ষন থাকলাম মায়ের কাছে, তারপর বেরিয়ে পড়লাম আমার জগদীশ্বরীর কাছে, কারণ আজ অমাবস্যা তিথি চলছে, বগলামুখী মাতৃ মিশনেও চলছে মায়ের বিশেষ অমাবস্যা পূজা।

যাইহোক, আপনারাও নিজ নিজ গুরুর চরণ ধরুন, গুরু ছাড়া মাকে পাওয়া অসম্ভব, তাও আবার কলিতে। মহামায়ার কৃপা সকলের দরকার, আর তাই মায়ের কাছে সকলে প্রার্থনা করুন যে সকলের যেন গুরুপ্রাপ্তি হয়। মায়ের কৃপায় সকলের মঙ্গল হোক এই প্রার্থনা করি।

 

Somananda Nath
roychoudhurysubhadip@gmail.com