23 Oct আত্ম উপলব্ধি
কলমে সোমানন্দ নাথ
সাধন পথে এগিয়ে চলতে চলতে একটা বিষয় ভীষন ভাবে ভাবায়, তা হলো “এই মহাসমুদ্রের মাঝে এক জনমে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই এই জনমে গুরুর সাহচর্যে থেকে ওই সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে এক চামচ করে গুরুর দেওয়া অমৃত জল পান করে মহামায়ার চরণ পেতে চাই।” দীর্ঘ ২০ বছরের এই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেও মনে হয় কিছুই যেন শেখা হল না, সবই যেন কেমন গুলিয়ে যায় মাঝে মাঝে। মানব শরীরে থেকে গুরুর চরণ বন্দনা করলেই আমার ইষ্টদেবীকে পাবো। কারণ এ আমার বিশ্বাস যে, গুরু পেলেই ইষ্টের দর্শন পাবো।
মানব শরীরের মূলাধার থেকে আজ্ঞাচক্র অবধি যত চক্র রয়েছে এবং যতগুলি পদ্ম রয়েছে সবেতেই তিনি রয়েছেন। এই গোটা শরীরই আমাদের মন্দির, আর সেই মন্দিরে যথাস্থানে “মা”কে বসাতে পারলেই তবেই সাধন সম্পূর্ণ হবে।
হৃদমন্দিরে সবসময় রয়েছেন আমার “মা” এবং তাঁর ডাকিনী, যোগিনী, লাকিনি, কাকিনী, শাকিনি ইত্যাদি সহচরীরা। যিনি “অন্তরের” লোক তাঁকে বাইরে খুঁজে লাভ কি? সত্যি বলতে, আমি মন্ত্র, তন্ত্র, সাধন, ভজন, পূজন কিছুই জানি না, বা বলতে পারেন জানতে চাইনা কারণ আমি “মা” নামের নেশায় মত্ত হয়ে যেতে চাই। ওই নামেতেই যা নেশা রয়েছে টা অন্য কিছুতেই নেই।
তবে হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি সুরেই মা’কে পাওয়া সম্ভব। সুর হলো সাধনা, যা দেবী সরস্বতীর দান। সকলের ভাগ্যে সেই সুর থাকে না, এবং দেবী সবার কন্ঠে সেই আশীর্বাদ দেন না। তাই সুর যার আশ্রয়ের জায়গা, সেখানে “মা” তো আসবেনই।
জগৎ সংসারে সবকিছুই নশ্বর, কেবলমাত্র “মা” নামই অবিনশ্বর, অর্থাৎ যার কোনো বিনাশ নেই, চিরসজীব। তাই মা যদি না আসেন তাহলে মানব জনমই বৃথা। বর্তমানে সংসারীরা নানান ধরনের নেশায় নিজেদের নিযুক্ত করে রেখেছেন, আর ভাবছেন অমৃতের সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তারা যে কতটা ভুল টা খুব সহজেই বোঝা সম্ভব। কারণ, যে কোনো জাগতিক নেশা খুব অল্প সময়ের জন্য সতেজ থাকে, তারপরই নেশার গুণ কমে যায়, কিন্তু আমরা যদি মা নামের নেশায় মত্ত হই, তাহলে সেই নেশা সারাজীবনের। যেমন আমার আচার্যদেব বলতেন, জীবনে কখনও দেশলাই কাঠি হয়ে থেকো না, যদি হতেই হয় তাহলে প্রদীপ হবে। কারণ, দেশলাই কাঠির আগুন ক্ষণিকের, কিন্তু যদি প্রদীপ হও তাহলে সারাজীবন নিজের আলোয় সকলকে আলোকিত করতে পারবে।
মানব জীবন বরই অসম্পূর্ণ এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। সেই জীবনকে সম্পূর্ণ করতে চাই মায়ের কৃপা আর নিশ্চয় করতে চাই গুরু কৃপা। তাই তোমরা সকলে মাতৃ নামে মেতে থাকো সারাজীবন, গুরু চরণ আশ্রয় করে কাটিয়ে দাও সারাজীবন, তবেই পাবে মুক্তি।