কালী কে? - Somanandanath
16341
wp-singular,post-template-default,single,single-post,postid-16341,single-format-standard,wp-theme-bridge,wp-child-theme-bridge-child,bridge-core-3.0.2,qode-page-transition-enabled,ajax_fade,page_not_loaded,,qode-child-theme-ver-1.0.0,qode-theme-ver-28.8,qode-theme-bridge,wpb-js-composer js-comp-ver-6.9.0,vc_responsive
 

কালী কে?

কালী কে?

কলমে সোমানন্দ নাথ

এক কথায় কালী নামের অর্থ বলতে গেলে সবচেয়ে আগে মনে হয় কালের অমোঘ রূপই কালী। অর্থাৎ কালের এই করাল গ্রাসের হাত থেকে জগৎ সংসারকে নিয়ন্ত্রণ করছেন দেবী কালিকা। এই বিশ্ব সংসারে সত্ত-তম এবং রজ গুণের অধিকারী দেবী কালিকা আবার এই জগত সংসারে যা নিত্য, যা সচ্চিদানন্দ, যা অক্ষয় তাই কালী।

মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেবী কালীর প্রয়োজন রয়েছে, যা বহু মানুষই বুঝে উঠতে পারেনি এখনও। প্রথমত, জীবের অজ্ঞানতা দূর করতেই তিনি জ্ঞান খড়গ নিয়ে সকল জীবের চেতনা শক্তিকে জাগ্রত করছেন।

দ্বিতীয়ত, মানব জীবনে দুঃখ, শোক, বেদনা, খুশি, আনন্দ সবই ক্ষণিকের, একমাত্র দেব সেবা-ই চিরকালের এই তত্ত্ব স্বয়ং দেবী বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁর সমগ্র গঠন দিয়ে।

তৃতীয়ত, আমরা বৃথাই স্বর্গ, মর্ত এবং পাতালে প্রবেশের চিন্তা করি। কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যাবে যে এই ত্রিকুলের অধিশ্বরী স্বয়ং কালী। তিনিই আদি, তিনিই অনন্ত, তিনিই এই স্বর্গ, মর্ত এবং পাতালের নিয়ন্ত্রণকরিণী।

চতুর্থত, মানবের হৃদয় দেবতাই কালিকা। কারণ হৃদ পদ্মে স্বয়ং আদিশক্তির বসবাস আর সেই হৃদ পদ্ম তখনই প্রস্ফুটিত হবে, তখনই দেবী কালিকা আসবেন যখন সেই হৃদ শ্মশানে পরিণত হবে। কারণ শ্মশানবাসিনীকে রাখতে গেল দেহ মন্দিরকে শ্মশান করে তুলতে হবে। দুঃখ শোক আনন্দ তাপ সবকিছুকেই তাঁর পাদপদ্মে অর্পণ করতে হবে।

দেবীকে জানতে হলে চাই নিরন্তন সাধনা এবং একাগ্রতা। এক চিত্তে তাঁর ধ্যান করতে হবে তবেই শ্যামা ধরা দেবেন। পূর্বতন সাধকেরা বারবার বলে গিয়েছেন মন্ত্র, তন্ত্র, পূজা, পাঠ এই সবেও তাঁকে মিলবে না। একমাত্র শরণাগতি এবং একাগ্র চিত্তে বিশ্বাসেই তাঁকে পাওয়া সম্ভব।

তোড়ল তন্ত্রে দেবী কালীর আটটি রূপ। যথা – দক্ষিণাকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, মহাকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী, শ্মশানকালী ও শ্রীকালী।

দক্ষিণাকালীর উল্লেখে বলা হয় যে, দক্ষিণদিকের অধিপতি যম যে কালীর ভয়ে পলায়ন করেন, তাই তিনিই দক্ষিণাকালী। দেবী করালবদনা, ঘোরা, মুক্তকেশী, চতুর্ভুজা ও মুণ্ডমালাবিভূষিতা। তাঁর বামকরযুগলে সদ্যছিন্ন নরমুণ্ড ও খড়্গ, দক্ষিণকরের একটিতে বর ও অপরটিতে অভয় মুদ্রা।

সিদ্ধকালী গৃহে পূজিতা নন। ইনি মূলত সাধকদের আরাধ্যা। কালীতন্ত্রে এই দেবীকে দ্বিভুজা রূপেও কল্পনা করা হয়েছে। আর অন্যদিকে তিনি ব্রহ্মরূপা ভুবনেশ্বরী। তাঁর দক্ষিণহস্তে ধৃত খড়্গের আঘাতে চন্দ্রমণ্ডল থেকে অমৃত রস নিঃসৃত হচ্ছে, আর সেই অমৃত রস বামহস্তের কপালপাত্রে ধারণ করে তিনি পরমানন্দে পান করছেন।

গুহ্যকালীও গৃহস্থের কাছে অপ্রকাশ্য। একমাত্র সাধকের আরাধ্যা। তাঁর রূপ অতীব ভয়ংকর, তাঁর গাত্রবর্ণ গাঢ় মেঘের মতন। তিনি লোলজিহ্বা এবং দ্বিভুজা। দেবীর গলায় পঞ্চাশটি নরমুণ্ডের মালা, কটিতে ক্ষুদ্র কৃষ্ণবস্ত্র, স্কন্ধে নাগযজ্ঞোপবীত, মস্তকে জটা ও অর্ধচন্দ্র, কর্ণে শবদেহরূপী অলংকার। চারদিকে নাগফণা, এমনকি নাগাসনে উপবিষ্টা। এই দেবীর বাম কঙ্কণে তক্ষক সর্পরাজ ও দক্ষিণকঙ্কণে অনন্ত নাগরাজ, বামে বৎসরূপী শিব। নবরত্নভূষিতা, অট্টহাস্যকারিণী, মহাভীমা ও সাধকের অভিষ্ট ফলপ্রদায়িনী।

মহাকালী পঞ্চবক্ত্রা এবং পঞ্চদশনয়না। কালিকাপুরাণে উল্লেখ রয়েছে, তিনি আদ্যাশক্তি, দশবক্ত্রা, দশভূজা, দশপাদা ও ত্রিংশল্লোচনা। তাঁর দশ হাতে রয়েছে যথাক্রমে খড়্গ, চক্র, গদা, ধনুক, বাণ, পরিঘ, শূল, ভুশুণ্ডী, নরমুণ্ড এবং শঙ্খ। ইনিও ভৈরবী, তবে গুহ্যকালীর সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে।

Somananda Nath
roychoudhurysubhadip@gmail.com