06 Oct সদগুরুপ্রসঙ্গ
‘গুরু’ কথাটির অর্থ বুঝতে পারলেই সদগুরু সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব। নামের মধ্যে যিনি নামীকে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি গুরু। আবার এই অখণ্ড ব্রহ্মের সমস্ত দিক যিনি নিজের হাতে দর্শন করায় তিনিই গুরু। বর্তমান সময়ে সমস্ত মন্ত্রাদি নানান গ্রন্থে মেলে, তাহলে গুরুর কি প্রয়োজন? এই কারণেই প্রয়োজন যিনি ব্রহ্মদর্শন করেছেন তিনিই পারবেন সঠিক পথ দেখিয়ে সেই উপলব্ধি শিষ্যের অন্তরে পৌঁছাতে। তবে কেবলমাত্র দীক্ষা দিয়েই যেমন গুরুর কর্তব্য শেষ হয়না, ঠিক তেমনই গুরুকরণ করেই শিষ্যের কর্তব্যও শেষ হয় না। দুজনের কর্মই দীক্ষানুষ্ঠানের পর শুরু হয়, এটাই শাস্ত্রসম্মত।
প্রকৃত অর্থে গুরু কে বলতে বোঝায়- যিনি অজ্ঞান, অন্ধকার দূর করে আলোর সন্ধান দেন এবং সর্বোপরি যিনি ব্রহ্মের স্বরূপকে চেনান তিনিই গুরু। এই অজ্ঞানতা হল অন্তরের কামনা, বাসনা, লোভ, হিংসা ও দ্বন্দ্ব। যেগুলি থেকে উদ্ধার পেতেই জীব সদগুরুর সন্ধান করেন এবং তাঁর চরণাশ্রিত হয়ে উদ্ধার পায়। সংসারের মধ্যে থেকেই সমস্ত রিপুকে জয় করতে হবে, নিজের অন্তরে থাকা দোষ ত্রুটিগুলি সংশোধন করতে হবে- এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের। আর সেই উদ্দেশ্যকে যিনি মানবের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনিই গুরু।
আর সদগুরু হলেন যিনি তোমাকে পার্থিব জীবন থেকে পারমার্থিক দেবত্বলোকে নিয়ে যাবে তিনিই সদগুরু। এমন পথ দিয়ে তোমাকে ব্রহ্মলোকে নিয়ে যাবে যেই পথে লোভ, হিংসা, কামনা কিছুই নেই। এমনকি ভক্তের লক্ষ্য নির্দেশ করেন তিনি। আবার যে বীজ তোমার মধ্যে অন্তলীন হয়ে রয়েছে সেই বীজকে জাগিয়ে তোলেন, সেটাই হল গুরু দীক্ষা। আর এই দীক্ষা না নিলে দেহ পবিত্র হয় না- এ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বলে যাওয়া কথা। তাই সদগুরুর সন্ধান করা বর্তমান সময় খুবই প্রয়োজন। আর জগজ্জননীর কৃপা থাকলে সেই সন্ধানও মেলে।